মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতাঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে এবার সীমিত আয়োজন পালন করা হলো কারবালার হৃদয়বিদারক ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত দিবস পবিত্র আশুরা। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে জনসমাগমসহ শোকযাত্রা ও সম্মিলিত মর্সিয়া গীতি অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করায় অনেকটা নিরবেই চলে গেল শীয়া মুসলমান তথা উর্দুভাষী মুসলিম জনগোষ্ঠীর অন্যতম বিশেষ দিবসটি।

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর বিট্রিশ আমল থেকেই উর্দুভাষী অধ্যুষিত। এদের মধ্যে শীয়া মুসলিমরা সেই সময় থেকেই ব্যাপক উতসাহ উদ্দীপনা তথা নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দশই মহররম পবিত্র আশুরা পালন করে। প্রতিবছরই মহররম মাসের চাঁদ দেখা দেয়ার পর থেকেই শুরু হয় উত্সব পালনের প্রস্তুতি। বিশেষ করে কারবালার শহীদের স্মরণে নির্মিত শহরের প্রায় ৮৫ টি ইমামবাড়া পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও রং করাসহ সাজসজ্জার কাজ। একইসাথে চলতে থাকে ইমামবাড়ায় স্থাপনের তাজিয়া তৈরী। সাতই মহররম থেকে আশুরার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় ইমামবাড়ায় ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে।

এদিন ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রাঃ) এর শাহাদাতের ঘটনার অন্যতম সহযোগী দুলদুল ঘোড়া ও সৈনিকদের আদলে পাইক সাজে শিশু-কিশোর-তরুন-যুবকসহ বয়স্ক পুরুষরা। নবম মররমের দিবাগত রাত তথা দশই মহররমের চাঁদ দেখে সে রাতেই ইমামবাড়ায় স্থাপন করা হয় তাজিয়া। এসময় মর্সিয়াগীতির আসর বসে ইমামবাড়াগুলোতে। পরদিন শহরের প্রতিটি ইমামবাড়া থেকে দলে দলে পাইকরা বের করে শোকযাত্রা বা তাজিয়া মিছিল। পরে বিকালে শহরের হাতিখানা কবরস্থানের প্রতীকী কারবালা প্রান্তরে অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশ। এই সমাবেশের মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটে আশুরার সার্বিক কার্যক্রম।

কিন্তু এবার সীমিত আকারে আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার রাতে শহরের ৪৮ টি ইমামবাড়ায় তাজিয়া স্থাপন করা হলেও মর্সিয়া হয়নি। অন্যান্যবারের মত এবার তাজিয়া মিছিলও হয়নি সৈয়দপুরে।

রোববার দুপুরে শুধু শহরের পার্বতীপুর সড়কে শীয়া মুসলমানদের আস্তানা “আঞ্জুমানে আব্বাসিয়া জামে মসজিদ” প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত সীমিত পরিসরে মাতম অনুষ্ঠান। কারবালা প্রান্তরেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় স্বল্প সংখ্যক লোকজনের উপস্থিতিতে।

সৈয়দপুর শীয়া মুসলমানদের আঞ্জুমান কমিটির সভাপতি মোঃ মােস্তাক হোসেন বলেন, আমাদের অন্যতম প্রধান বিশেষ দিবস হলো আশুরা। প্রতিবছর এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য রংপুর, বগুড়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, খুলনা, ইশ্বরদীসহ রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রাম এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শত শত ইমাম হুসেইনপ্রেমী সমবেত হন এখানে। কিন্তু এবার বিধিনিষেধ থাকায় অধিকাংশরাই আসতে পারেনি।

সাধারণ সম্পাদক মোঃ আফতাব হোসেন বলেন, এবার সৈয়দপুরে অর্ধেক ইমামবাড়ায় তাজিয়া স্থাপিত হয়েছে। অন্যান্য আয়োজনও ছিলো সীমিত। তবে ইমামবাড়াগুলোতে কারবালার শহীদের স্মরণে মানতকারীদের উপস্থিতি ছিলো আগের মতই। তবে করোনার কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সচেতন ছিলো সবাই।

কমিটির সদস্য মোঃ আনছার আলী বলেন, বরাবরের মত এবারও আমরা ইমাম হাসান হুসেইন এর ওছিলায় বিশ্ব মুসলিমের কল্যান ও দেশের মঙ্গলের জন্য মোনাজাত করেছি। বিশেষ করে মহামারী করোনা থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য