দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে ইয়াসমিন ট্রাজেডির গণ আন্দোলনের ২৫ বছর পূতি হলো গতকাল ২৭ আগস্ট। তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন শহরে কতিপয় বিপথগামী পুলিশ কর্তৃক কিশোরী ইয়াসমিন ধর্ষিত ও হত্যার শিকার হওয়ার প্রতিবাদী জনতার মিছিলের উপর পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলে সামু, কাদের ও সিরাজসহ সাতটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ে। রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ।

দিবসটি স্মরণে প্রতিবছরের ন্যায় গতকাল ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় দশমাইল পূর্ব সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ ‘সামু-কাদের-সিরাজ’ একাডেমিক ভবনে শহীদ ‘সামু-কাদের-সিরাজ’ স্মরণে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী নেতা ও দিনাজপুর-১ সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

প্রধান অতিথি এমপি গোপাল বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২৪ আগস্ট নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। কিন্তু আজও কি ধর্ষনের ঘটনা কমেছে ? এর কারণ হলো মামলার দীর্ঘসুত্রতা। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাই নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষন মামলা গুলো বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, দিনাজপুরের সহজ-সরল ও বাহে মানুষ গুলো ৯৫’র ইয়াসমিন ধর্ষন ও হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দেখিয়েছেন তাদের বাহুকার জোড় কত। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে আমরা যে বিচার পেয়েছি তা বিশে^র ইতিহাসে বিরল। পুলিশ কিশোরী ইয়াসমিনকে পতিতা বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু সেদিন যদি দিনাজপুরের মানুষ জেগে না উঠত তাহলে হয়তো অপরাধি পুলিশের বদলে আমার ফাঁসি হতো।

এমপি গোপাল আরো বলেন, বিএনপি এবং খালেদা জিয়ার প্রতিনিধি সে সময় দিনাজপুরে এসে সাধারণ মানুষের আট দফা দাবী মেনে নিলেও তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে মামলা প্রত্যাহারসহ নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।

শহীদ সামু-কাদের-সিরাজ স্মরণ কমিটির আহবায়ক মো. মজিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরুপ বকসী বাচ্চু, সুন্দরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শরিফউদ্দিন, সুন্দরপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো. হামিদুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. বজলুর করিম বাবুল।

উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট কিছু বিপথগামী পুলিশ সদস্য ইয়াসমিনকে ধর্ষনের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। তারই প্রতিবাদে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার চূড়ান্ত রুপ নেয় ২৭ আগস্ট। সেদিন বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিলে পুলিশের গুলিতে সামু, কাদের, সিরাজসহ ৭ জন নিহত হয়। সেই থেকে তাদের স্মরণে ২৭ শে আগস্ট স্মরণ সভা পালিত হয়ে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য