ইরেজী বিভাগের শিক্ষক হয়েও প্রকৃতি এবং গাছপালার প্রতি বেশ টান ছিল। তাই চাকুরী জীবনের অবসরে বিভিন্ন ফলজ গাছের বাগান করেছেন। বাগান থেকে শুধু অর্থ উপার্জন হবে এমনটি নয় বরং সবুজ প্রকৃতিতে ভরে উঠবে গ্রামে এবং আগামী প্রজন্ম বিষমুক্ত ফল খেতে পাবে এমন চিন্তা থেকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশবাড়ী করবুলা ডাঙ্গা নামক স্থানে প্রাথমিক ভাবে আম ও লিচুর বাগান করেছেন বগুড়া সরকারী আজিযুল হক কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোঃ ওসমান গনি।

অধ্যাপক মোঃ ওসমান গনি জানান, চাকুরী জীবনে রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি বগুড়া সরকারী আজিজুল হক কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজী বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে অবসর গ্রহণ করার পর বগুড়ায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন তিনি। রংপুরে চাকুরী জীবনে পরিচয় হয় একজন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তার সাথে। সে সময়ে তার একটি লিচু বাগান দেখে আমি বাগান করার প্রতি অনুপ্রাণিত হই। পরে আমার ফুফাত ভাই মো. গোলাম মোস্তফাকে বিষয়টি জানালে তিনি তার বাড়ীর পাশে বেশ কিছু জমি কিনে দেন।সেখানে কিছু লিচু এবং গোর মতি নামক নুতন জাতের আমের চারা রোপন করি। এবং বাগানের দেখাশুনার সার্বিক দায়িত্ব দেই মো. গোলাম মোস্তফাকে। বর্তমানে গাছে ফলন এসেছে এবং বিক্রয় করে বেশ কিছু অর্থ আয় হয়েছে বাগান থেকে।

বাগান দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা মো. গোলাম মোস্তফা জানান, সাড়ে ৩বছরে পুর্বে ৪০হাজার টাকায় রাজশাহী হতে ১শত গৌরমতি নামক নতুন জাতের আমের চারা নিয়ে এসে জমিতে রোপন করা হয়। এরপর মা গাছ হতে কলম করে আর কিছু চারাসহ ১একর ২০শতক জমিতে ২৪০ আমের চারা রোপন করা হয়। নতুন জাতের আম তাই নিজে এবং অনেক সময় কিছু কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নিবিড় ভাবে শুরু হয় বাগান পরিচর্যা। গত বছর ফলন আসলেও এবছর প্রথম বানিজ্যিক ভাবে আম সংরক্ষণ করা হয়। আম সংরক্ষণের জন্য রাজশাহীর চাপাই এগ্রো হতে ৩টাকা ৫০পয়সা দরে প্যাকেট কিনে ১৭হাজার আম ব্যাগিং করা হয়। বাগান সংরক্ষণে বাশ এবং পরিচর্যার শ্রমিক মজুরি, সার ও পানি দেওয়াসহ সব মিলে এপর্যন্ত খরচ হয়েছে ১লক্ষ ৪০হাজার টাকা। বাগানের আম বিক্রয় করা হয়েছে ৭লক্ষ টাকায়। এই আমের বৈশিষ্ট এটি ব্যাগিং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে হয় এবং এ কারণে আমগুলি যে কোন প্রকার ভাইরাস ও বিষমুক্ত থাকে। মৌসুমে শেষে আম পাকা শুরু হয় তাই আমের দাম পাওয়া যায় ভালো। আশা করছি আগামী বছর আরও বেশি ফলন হবে এবং বেশি দামে আম বিক্রয় করতে করা যাবে। পাশাপাশি বাগান হতে ২১হাজার চারা কলম করা হয়েছে। প্রতি চারা ১৩০টাকা দরে বিক্রয় করা হয়।

আম ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গৌর মতি একটি নুতন জাতের আম। এই আম ব্যাগিং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয় বলে আম বিষ মুক্ত থাকে এবং নষ্ট হয় কম। মৌসুমের শেষে আম বাজারে আসে তাই দাম পাওয়া যায় বেশি। নতুন আম হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে। বর্তমানে এটি ঢাকায় সাড়ে ৩শত হতে ৪শত টাকা কেজি দরে বিক্রয় হয়। আশা করছি এই বাগান থেকে আনুমানিক ১৫লক্ষ টাকা আয় হতে পারে। খরচ বাদ দিয়ে কমপক্ষে ৫লক্ষ টাকা নিট লাভ থাকবে বলে আশা করছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১১টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় বিভিন্ন প্রজাতির আমের বাগান রয়েছে ২১৯হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বারী-৪ আম ৪হেক্টর, আম্রপালি আম ১৫হেক্টর, হাড়িভাংগা আম ২৫হেক্টর, লেঙড়া আম ২০হেক্টর, বান্দিগড় আম ২হেক্টর, মিসরিভোগ ২হেক্টর, গোপালভোগ ২হেক্টর, গুটি আম ১০হেক্টর এবং গৌড়মতি আম ২হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, গৌরমতি আম বাগান এই উপজেলায় প্রথম। অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক এই আমের বাগান করেছেন। এতে তিনি সফলতা পেয়েছেন। এই আম মৌসুমে শেষে আসে। আম ব্যাগিং পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয় বলে বিষ ও জীবানু মুক্ত থাকে। শেষ মুহুর্তে এই বাজারে আসে বলে বানিজ্যিক ভাবে এই আমের বাগান বেশ লাভজনক। এই আম বাগান দেখে অনেক কৃষক আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। আমরা চাই এ ধরণের লাভ জনক আম বাগান ছড়িয়ে পড়ুক এই উপজেলায়। আর্থিক ভাবে লাভবান হতে আমাদের বাগান মালিক। এতে করে অনেকের ভাগ্যর চাকা খুলে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য