দিনাজপুর সংবাদাতাঃ ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট দিনাজপুর এপি জেলার পৌর এলাকা সহ কাহারোল এলাকায় মোট ৩ হাজার ৩ শত ৭২ জন শিশু নিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। প্রকল্পের আওতায় ১০টি কার্যক্রম রয়েছে , কার্যক্রম গুলোর মধ্যে রয়েছে (১) শিশুর অধিকার/ নিরাপত্তা ও বর্তমান আইন/ নিতিমালা বিষয়ক সচেতনতামুলক সেশন পরিচালনা, (২) জেলা/ উপজেলা/ ইউনিয়ন শিশুশ্রম পরিবেক্ষন কমিটির দক্ষতা বৃদ্ধি, (৩) শিশু শ্রমিকদের (বয়স ১০-১৭) কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহায়ক উপকরন প্রদান, (৪) শিশু শ্রমিকদের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক স্কুলগামী করার লক্ষ্যে রেফারেল মেকানিজম প্রতিষ্ঠা, (৫) অভিভাবক ও পরিচর্যাকারিদের জন্য আয় বৃদ্ধিমুলক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষাণ প্রদান, (৬) কিশোরীদের ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা মুলক সভা, (৭) শিশুদের জন্য জীবন দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করা শিশুদেরকে শিশুশ্রম থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য শর্ত সাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, (৮) শিশু, মাতা-পিতা, কমিনিউটি তথা ফেইথ কমিউনিটি, সিভিল সোসাইটি/ সুশীল সমাজ এবং জনগনের জন্য সেবা প্রদানে নিয়োজিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে সচেতনতা বৃদ্ধি মুলক কার্যক্রম পরিচালনা করা, (৯) সরকারি দপ্তর সমুহ, নিয়োগকর্তা সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, সিভিল সোসাইটি, সুশীল সমাজ ব্যক্তিবর্গের সাথে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং (১০) সরকারি (বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা) পর্যায়ে শিশুশ্রম নিরসন কমিটি গুলো কার্যকর করা।

২০১৮ইং থেকে ২০২০ইং পর্যন্ত প্রায় ৩ বছরে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট দিনাজপুর এপি জেলার পৌর এলাকায় ২৭টি সেলাই মেশিন, ২৫টি হাউজওয়ার ইলেক্ট্রিক এন্ড রেফ্রিজারেটোর ট্রেনিং, ৪টি অটোমোবাইল ট্রেনিং, ১৩টি ভ্যান, ৩৭টি গরু, ২৬টি ভোকেশনাল ট্রেনিং এর মাধ্যমে ৩৬টি ছাগল প্রদান করা হয়।

দিনাজপুর সদরের শেখপুরা এলাকার দিনমুজুর রশিদুল ইসলাম এর কন্যা জান্নাতুন ফেরদৌস (১৪) জানায়, সে সকালে ঘুম থেকে উঠে মানুষের বাড়ীর থালা বাস মাজা, কাপড় কাচা,ঘর ঝারা সহ সকল প্রকার কাজ করা সেই সাথে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করে দিনটি অতিবিাহিত হয়। অন্যদের স্কুলে যাওয়া দেখে আমারও ইচ্ছে হয় তাদের মত যদি আমিও স্কুলে যেতে পারতাম, অন্যদের মত আমিও খেলতে পারতাম প্রতিদিন আমি মানুষের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করি আর স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন পূরণের জন্য চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট আমার পরিবারে অনেকটা সাপোর্ট দিয়েছে আমি এখন স্কুলে যাই, অন্য বন্ধুদের সাথে খেলা-ধুলা করি।

]রাজবাটী সবজীবাগান এলাকার মানসিক প্রতিবন্ধি এস এম মেরাজ এর পুত্র শিহাব উদ্দিন শুভ (১৮) বলে, আমি ২০১৬ সালে ৮ম শ্রেণিতে পড়তাম পরিবারে আমার বাবা মানসিক রোগে আক্রান্ত, বাবা সহ পরিবারে ৫ সদস্য। পরিবারে অভাব থাকায় আমার এবং আমার বোনের পড়া বন্ধ হয়ে গেছে আমি একটি ইলেকট্রিক হাউজ ওয়ারিং এর দোকানে কাজ করি কিন্ত সেখানে আমাকে যে বেতন দেয় তা দিয়ে আমার পরিবারে কিছুই হয় না। ২০২৮ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট দিনাজপুর এপি এর মাধ্যমে আমাকে হাউজওয়ার ইলেক্ট্রিক এন্ড রেফ্রিজারেটোর ট্রেনিং প্রদান করে বিভিন্ন সাপোর্ট প্রদান করে। এই প্রশিক্ষণ শেষে আমি হাউজওয়ার ইলেক্ট্রিক এন্ড রেফ্রিজারেটোরের দোকানে মানসম্মত বেতনে চাকুরি করছি এবং বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে গিয়ে ফ্রিজ রিপিয়ারিং করি এতে আমার পরিবার কিছুটা স্বচ্ছল হয়েছে।

পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের গোবড়াপাড়া এলাকার সাইফুল ইসলাম এর কন্যা সুমি (১৪) জানায়, আমার পরিবারে আমার মা ও আমরা ২ বোন, বাবা আমাদের ছেড়ে অন্যত্রে চলে যায়। সংসারে অভাবের কারণে আমি ৬ষ্ট শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে আর পড়া লেখা করা সম্ভব হয়নি। রাজাপাড়া ঘাটে আমি ও আমার বোন মিলে ভাজা পোড়া বানিয়ে বিক্রি করতাম তবুও সংসারে অভাব লেগেই চলেছিলো। ২০১৯ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট দিনাজপুর এপি এর মাধ্যমে আমাকে ২ মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং প্রশিক্ষণ শেষে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করে। এখন আমি আমার এলাকায় একটি দোকানে সেলাই এর কাজ করি এবং নিজ বাড়ীতে উক্ত সেলাই মেশিন দ্বারা বিভিন্ন সেলাই কাজ করি এতে মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা উপার্জন করি। আমি পুনরায় স্কুল মূখী হয়েছি বর্তমানে ইকবাল হাই স্কুলে ৬ ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি।

পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা হটাৎপাড়া এলাকার ফেরিওয়ালা সিরাজুল ইসলাম এর কন্যা শিল্পী (১৪) জানায়, আমার পরিবারে বাবা সহ মোট ৫জন সদস্য বাবা একজন ফেরিওয়ালা সারদিন ফেরি করে যা উপার্জন করে তা দিরয় সংসারে যোগান দেয়া খুব কষ্টকর। আমি ৮ম শ্রেণি পাশ করার পর বাবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি মানুষের বাসায় কাজে লেগে পরি। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, চাইল্ড লেবার প্রজেক্ট দিনাজপুর এপি এর ওয়ার্ড কমিটি আমাকে খুজে বের করে কাউন্সিলিং করে আমাকে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে এবং আমাকে ২ ছাগল প্রদান করে। এই ছাগল ২টি পালন করে ১ বছরে মোট ৬টি ছাগল হয়েছে, আমি ৪টি ছাগল বিক্রি করে বাবার ফেরি ব্যবসা কাজে সহযোগিতা করেছি এখন সংসারে কিছুটা অর্থের মূখ দেখতে পারছি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য