মোঃ লিহাজ উদ্দীন মানিক, বোদা (পঞ্চগড়) থেকেঃ কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা আর মাল্টা ফলে ফলে ভরে গেছে গাছটা। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থাপিত মাল্টা ও কমলার প্রদশর্নীগুলোতে কৃষকের মুখে আজ হাসি ফুটিয়েছে। প্রায় বাগান ফলে ফলে ভরে যাওয়ায় কৃষকের চোখে মুখে আজ আত্মবিশ্বাস ও আনন্দের ছোঁয়া।

লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় অত্র উপজেলার পুরাতন মাল্টা বাগানগুলো নতুন যৌবন ফিরে পেয়ে মাল্টা ফলে ভরে গেছে, আর এই মাল্টাগুলো বিষমুক্ত ও নিরাপদ করার জন্য অত্র প্রকল্পের অর্থায়নে ভাল পরিচর্যা করাসহ প্রতিটি বাগানে স্থাপন করা হয়েছে ফেরোমেন ফাঁদ। এই উপজেলায় ছোট বড় মিলিয়ে বেশ কিছু মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে।

গত বছরে এই উপজেলা থেকে ঢাকার বাজারে ও বড় বড় সুপার শপে প্রায় ২ টন মাল্টা বিক্রি হয়েছে, এই বছর আরো বেশি পরিমানে মাল্টা উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাল্টার দাম ভাল পাওয়ায় এবং উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মতৎপরতায় অনেক কৃষক মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় মাল্টা ও মিশ্র লেবু (মাল্টা, কমলা, লেবু) প্রদর্শনী কৃষকদের মাঝে চারা, জৈব ও রাসায়নিক সার, বালাইনাশক, স্প্রে মেশিন, প্রুনিং সিকেচার, গ্রাফটিং নাইফ ও নগদ অর্থ বিতরন করেছেন। আগামীতে উক্ত প্রকল্পের আওতায় ০৫, ১০, ২০,৩০,৪০, ৫০ ও ১০০ শতক জমির উপর নতুন নতুন আরো বাগান তৈরি করা হবে যাতে উপজেলা কৃষি অফিস সকল প্রকার উপকরন (চারা, সার, কীটনাশক, স্প্রে মেশিন সহ অন্যান্য সাপোর্ট) ও প্রশিক্ষন দিবে।

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ এর উপ-পরিচালক আবু হানিফ বোদা উপজেলার বেশ কয়েকটি মাল্টা বাগান পরিদর্শন করে উচ্ছ্বাস ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। একজন মাল্টা বাগান মালিক মোঃ তরিকুল আলম প্রফেসর জানান, বাগান করার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমি কৃষি অফিস থেকে সকল রকম উপকরন ও পরামর্শ পেয়ে একটি ভাল বাগান করতে পেরেছি এবং আশা করছি এবছর লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবো।

এই প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ আল মামুন অর রশিদ জানান প্রকল্পের সহায়তায় এবং উদ্বুদ্ধকরনের মাধ্যমে মাল্টা বাগান সম্প্রসারনের কাজ চলছে এবং বোদা উপজেলার মানুষ তাদের উপজেলার উৎপাদিত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট মাল্টার স্বাদ (যা বাজারের চেয়ে অনেক ভালো ও নিরাপদ) উপভোগ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন উপজেলা কৃষি অফিস এই উপজেলায় নতুন নতুন উদ্যোক্তার মাধ্যমে মাল্টা বাগান তৈরী করে উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জায়গায় সরবরাহ করার জোর আশাবাদী। কোন কোন বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ না করে ফেরোমেন ফাঁদ স্থাপন এবং ব্যাগিং এর মাধ্যমে পোকা দমন করে নিরাপদ মাল্টা উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানীর চেষ্টা করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য