করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখ ছাড়িয়ে দেওয়ার দিনেই ভারতে শুরু হচ্ছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পুনের একটি হাসপাতালে সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই) এ ট্রায়াল শুরু করবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন করোনায় সংক্রমণ এবং মৃত্যু বাড়লেও এই রোগ নির্মূলে এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা যায়নি। বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় শতাধিক গবেষণা চললেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মনে করছে, এই ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে শীর্ষে রয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগটি। ভারতেও এ ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল চালানো হয়েছে। এবা শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল।

গত ৩ আগস্ট দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে মানবদেহে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সিরামকে অনুমোদন দিয়েছে ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। দেশের ১৭ টি জায়গায় সেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। সিরামের সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে সেই ট্রায়াল চালানো হবে। তাতে অংশগ্রহণ করবেন ১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রায় ১,৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগের আগে প্রত্যেকের ব়্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা হবে। তাদের শরীরে করোনার কোনও অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

ভ্যাকসিনের প্রস্তুতকারী সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ‘আমরা সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের (সিজিএসসিও) যাবতীয় অনুমোদন পেয়েছি। ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) থেকে ভারতী বিদ্যাপীঠ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে হিউম্যান ট্রায়াল প্রক্রিয়া শুরু করব আমরা।’

সিরামের নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক অতিরিক্ত কর্মকর্তা প্রকাশ কুমার সিং পিটিআইকে বলেন, ‘আমাদের দলের মানসিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের মানুষের জন্য বিশ্বমানের করোনা প্রতিষেধক তৈরি করব আমরা এবং আমাদের দেশকে আত্মনির্ভর করে তুলব।’

ভারতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩১ লাখের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। ২৪ ঘণ্টায় ৬০,৯৭৫ জন আক্রান্তসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৩২৬ জন। সেই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৪৮ জনের। এর মধ্য দিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ হাজার ৩৯০ জন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য