দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বেশ কিছুদিন থেকেই বাড়ির ছাদে, ঘরের চালে ও গাছের ডালেসহ বিভিন্নস্থানে দেখা মিলছে দলছুট একটি মুখপোড়া হনুমানের। খাদ্য ও নিজের নিরাপত্তায় একস্থান থেকে আরেকস্থানে দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে সে। অবশেষে হনুমানটি হাঁপিয়ে গিয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে আশ্রয় নিলো থানার টাওয়ারে। এমনি ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে।

জানা যায়, বেশকিছুদিন থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলছে দলছুট হয়ে পড়া মুখপোড়া একটি হনুমানের। হঠাৎ করেই লোকালয়ে আসা হনুমানটির লাফ-ঝাঁপ দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় জমালে; প্রাণের ভয়ে লাফালাফি করে নিজের স্থান পরিবর্তন করছে সে। খাবার ও নিরাপদ স্থানের খোঁজে অবশেষে হনুমানটি আশ্রয় নিয়েছে ফুলবাড়ী থানায়।

রবিবার ফুলবাড়ী থানা চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, একটি মুখপোড়া হনুমান থানার নবনির্মিত টাওয়ারের ওপরে উঠে বসে আছে। টাওয়ারের নিচে থানার ওসির নির্দেশনায় দেওয়া হয়েছে নানাপ্রকার খাবার। খিদে পেলে টাওয়ারের নিচে নেমে খাওয়া করে আশপাশে ঘুরে এসে আবারো উঠে যাচ্ছে টাওয়ারের ওপরে।

পৌরএলাকার সুজাপুরের ডাড়ারপাড় সরকারপাড়া গ্রামের প্রভাষক এহেতেশাম আহম্মদ জানান, ‘গত ১৯ আগস্ট হঠাৎ তার ভাড়াবাসায় একটি হনুমানের আবির্ভাব হয়। প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেছিল হনুমানটি। তাকে দেখতে ছুটে আসে আশপাশের গ্রামের শতশত মানুষ। মানুষের কোলাহলে আতঙ্কিত হয়ে সেখান থেকে চলে যায় হনুমানটি।’

ফুলবাড়ী থানার পুলিশ সদস্য (কন্সটেবল) মো. মামুন বলেন, ‘হনুমানটি থানায় আসার পর থেকেই ওসি স্যারের নির্দেশনায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, চারিদিকে উৎসুক জনতার কোলাহলে আতঙ্কিত হয়ে থানায় এসে নিজেকে নিরাপদ মনে করছে হনুমানটি। ‘গত ২১ তারিখে প্রথম থানা চত্বরে মুখপোড়া হনুমানটিকে দেখা যায়। সে বর্তমানে থানার নবনির্মিত টাওয়ারের ওপরে রয়েছে। সে নেমে আশপাশের এলাকায় ঘুরে ফিরে আবারো থানায় এসে আশ্রয় নিচ্ছে। হনুমানটির জন্য ফলসহ বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন জানান, ‘হনুমানটিকে উদ্ধারসহ নিরাপদ হেফাজতে নেওয়ার ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য