শত শত বাড়িঘর ও একের পর এক অমূল্য বনাঞ্চল পুড়িয়ে দেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলকে বড় ধরনের দুর্যোগ ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমাঞ্চলীয় এ অঙ্গরাজ্যটির জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে অর্থ ছাড় করেছেন।

গত সপ্তাহে ১২ হাজারেরও বেশি বজ্রপাতের পর ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে দেখা দেওয়া ৫৮৫টি ছোট-বড় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনও ১৪ হাজারেরও বেশি দমকল কর্মী প্রাণপণ লড়ে যাচ্ছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার এবারের দাবানল এরই মধ্যে ছয় জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, ঘরবাড়ি ছাড়া করেছে প্রায় দুই লাখ মানুষকে।

তীব্র বাতাসের কারণে আগুন ঘনবসতিপূর্ণ আরও এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার সান হোসের কাছে বে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ৫৮৫টির মধ্যে মূলত তিনটি বড় অগ্নিকুণ্ড সামলাতেই দমকল কর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দমকল কর্মীদের তীব্র গরমের মধ্যেই টানা ৭২ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে।

আগুনের শিখা ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে পুরনো স্টেট পার্কে থাকা দুই হাজার বছর পুরনো বেশ কয়েকটি গাছকে ঝলসে দিয়েছে; মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে বিগ বেসিন স্টেট পার্কের ঐতিহাসিক দর্শনার্থী কেন্দ্রও। পার্কটির ৩৩০ ফুট উঁচু কিছু গাছও ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকাটির ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পূর্ব ও দক্ষিণ সান ফ্রান্সিসকোর বিস্তৃর্ণ এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া এসসিইউ লাইটনিং কমপ্লেক্স নামের অগ্নিকুণ্ডটিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে তৃতীয় বৃহত্তম বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম।

দাবানল মোকাবেলায় শুক্রবার তিনি অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার কাছে করা আবেদনে ‘অভিজ্ঞ ও সেরা দমকল কর্মী’ চেয়েছিলেন।

ক্যালিফোর্নিয়াকে প্রায় প্রতিবছরই দাবানল মোকাবেলা করতে হয়। তবে এবারের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি ‘আগে কখনোই দেখা যায়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন গভর্নর নিউসম। এর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করেছেন তিনি।

“আপনি যদি জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বাস না করেন, তাহলে ক্যালিফোর্নিয়ায় আসেন,” শনিবার টুইটারে এমনটাই বলেছেন এ ডেমোক্র্যাট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য