দিনাজপুর সংবাদাতাঃ পাঁপড়, বাঙ্গালীর মুখরোচক একটি খাবার। দেশের যেসব জেলায় পাঁপড় উৎপাদন করা হয় তার মধ্যে অন্যতম দিনাজপুর জেলা। শুধু দেশে নয়, দিনাজপুরে উৎপাদিত পাঁপড়ের চাহিদা রয়েছে বিদেশেও। এজন্য এক সময়ে এই খাবারটি রপ্তানীর উদ্যোগও নেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন এই পাঁপড়ের সাথে জড়িতরা রয়েছেন সংকটে। আর করোনায় এই সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্ভাবনাময় মুখরোচক খাবার পাঁপড়। দিনাজপুর জেলার চকবাজার, রাজবাটী, নতুনপাড়া, বড়বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায় এভাবেই তৈরী হয় পাঁপড়। এই পাঁপড় শিল্পের সাথে জড়িত আছে কয়েক হাজার শ্রমিক। দিনাজপুরে উৎপাদিত পাঁপড়ের শুধু দেশে নয়, বিদেশেও চাহিদা রয়েছে।

সেজন্য বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুারোর মাধ্যমে অনেক শ্রমিকই প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। কোন কোন রপ্তানীকারক বিদেশে রপ্তানীও করেছিলেন। রপ্তানী বন্ধ হওয়ায় এর সাথে জড়িতদের আয় কমেছে। এক সময়ে যারা পাপড় তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের সংসার ও ঋনের কিস্তি চালানো দায়, তার উপর করোনায় পড়েছে আয়ের উপর আরেক থাবা।

ব্যবসায়ী ও রপ্তানীকারকেরা বলছেন, এক সময়ে রপ্তানী হলেও পরে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। যার মূল কারণ সরকারের সঠিক সহযোগিতার অভাব। পাশাপাশি রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোকেও দুষছেন তারা। বিদেশে পাঁপড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সরকারী পদক্ষেপ হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দেশও লাভবান হবে।

বিশ্বব্যাপী পাঁপড়ের চাহিদা থাকায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো দিনাজপুরে উৎপাদিত পাঁপড় রপ্তানীর উদ্যোগ নিয়েছিল। পাঁপড় শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণও প্রদান করে। ২০১৬ সালে একবার পাঁপড় লন্ডনে রপ্তানী হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারনেসেই উদ্যোগটি হয়ে যায় স্থিমিত।

বর্তমানে দিনাজপুরে বড় পাঁপড় ব্যবসায়ী আছেন ৫৬ জন আর ছোটবড় সবমিলে রয়েছেন প্রায় ২ শতাধিক। দিনাজপুরে পাঁপড়ের সাথে যুক্ত শ্রমিক আছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। যার মধ্যে প্রায় ৭০ হাজারই নারী। প্রতিদিন এই জেলায় ১০ থেকে ১২ টন মুগ, মসুর, খেসারীসহ বিভিন্ন ডালের পাঁপড় তৈরী হয়। তবে করোনার এই সময়ে পাঁপড়ের উৎপাদন কমেছে ৩ থেকে ৪ টন।

প্রকারভেদে এক কেজি পাঁপড়ের সর্বনি¤œ মূল্য ১০০ টাকা আর সর্বোচ্চ মূল্য ২৫০ টাকা। এর আগে পাঁপড় দেশে-বিদেশে রপ্তানীর জন্য পাঁপড় পল্লী নামে একটি জায়গা দাবি করেছিল পাঁপড় ব্যবসায়ী সমিতি, কিন্তু পরে তা হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য