মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা॥ নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্বাসরোধে হত্যা করে ধানক্ষেতের মাঝে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে ঝুলিয়ে রাখা তিন সন্তানের জননীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

২২ আগস্ট শনিবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর বালাডাঙ্গা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত গৃবধুর নাম আকলিমা খাতুন (৩৫)।

তিনি পার্বতীপুর উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম ধান ব্যবসায়ীর স্ত্রী। তার বাবার বাড়ী সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামে। তার বাবার নাম আবেদ আলী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইতোপূর্বে প্রায় ২ বার আকলিমা ও তার স্বামীর সাথে মনোমালিন্য বা বিরোধ হওয়ায় পারিবারিকভাবে মিমাংসা করা হয়। দীর্ঘদিন থেকে তারা আন্তরিকতার সাথেই সংসার করছিল। এমতাবস্থায় গত ঈদুল আজহায় স্বামীসহ আকলিমা বাবার বাড়িতে এসে দাওয়াত খেয়েও গেছে। এসময় তাদের মাঝে কোন সমস্যা দেখা যায়নি। কিন্তু হঠাৎ করে আজ সকালে আকলিমার বাবার বাড়ির অদূরে বালাডাঙ্গা নামক স্থানে ধান ক্ষেতের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে দড়ি দিয়ে বাধা অবস্থায় তার লাশ ঝুলতে দেখে স্থানীয় এক কৃষক।

খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এগিয়ে যেতে যেতে লাশটি দড়ি ছিড়ে মাটিতে পড়ে যায়। তারা গিয়ে ধান ক্ষেতের মাঝে লাশ দেখতে পায়। পরে থানায় বিষয়টি অবগত করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নীলফামারী জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত আকলিমার চাচা আবু সাঈদ জানান, আমার ভাতিজির শ্বশুর বাড়ি পার্বতীপুরে। ঝগড়া বিবাদ কোন কিছুর সংবাদ পাওয়া গেলনা অথচ তার লাশ আমাদের বাড়ির পাশেই পাওয়া গেল। এ হত্যাকান্ড পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে এবং তার স্বামী শরিফুল জড়িত আছে। পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। আমরা এ হত্যার বিচার দাবী করছি। আমরা একটি হত্যা মামলা দায়ের করবো।

কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: রেজাউল করিম লোকমান বলেন, আকলিমার হত্যাকান্ড রহস্যজনক। স্বামীর বাড়িতে থাকাবস্থায় লাশ পাওয়া গেল বাবার বাড়িতে। আমরা এ হত্যার দৃস্টান্তমূলক বিচার চাই।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানান,প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে আকলিমা খাতুন কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তার স্বামী শরিফুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনতে পার্বতীপুরে একটি টিম পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য