তিন পাশে নদী। গুচ্ছ গ্রামের জন্য মাটি ভরাট করার পর পরই ভিটের তিন পাশে নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। এমন জায়গায দেখানো হয়েছে গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প। এতে সরকারের গচ্চা যাচ্ছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। ফয়দা লুটছে চেয়ারম্যানসহ প্রশাসন কয়েকটি বিভাগ। প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অবগত করার পরই সেখানে তড়িঘড়ি করে তৈরি করা হচ্ছে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দেওয়া গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পের কাজ। নদী ভাঙ্গন এলাকায় কেন দেওয়া হল প্রকল্পটি।

আবার কেন সেটি মেরামত না করে তড়িঘড়ি করে গৃহ নিমার্ন করা হচ্ছে এ নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। পদক্ষেপ নিলে, কেমন করে টাকা উপার্জন করবে।তাদের আচরনে মনে হচ্ছে সরকারি মাল দরিয়ামে ঢাল। এমনই একটি প্রকল্প দেখিয়ে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের চড়ই হাটি গুচ্ছ গ্রামের অর্থ হরিলুটের পায়তারা করছে।

মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর ফকির পাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক বাবুল মিয়া ,কৃষক শমসের আলী ও লাল মিয়া জানান,যে জায়গায় গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছে তা আগামী ২ মাসের মধ্যে বিলিন হয়ে যাবে। অথচ ওই প্রকল্পটি নদীর পূর্ব পাড়ে দিলে সরকারি টাকা কাজে লাগত। উপকৃত হত আমার মত নদীতে বিলিন হয়ে যাওয়া পরিবার গুলো। অফিযোগে আরও জানা গেছে, প্রকল্পটি করার পূর্বে বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তরের প্রধান গণ সরে জমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার পর তা মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর থেকে অনুমোদন পেয়েছে।

প্রথম ধাপে মাটি ভরাট প্রকল্পের জন্য ১২৬ মে.টন চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছিল। যা জুন/২০ এর মধ্যে সমাপ্ত দেখানো হয়েছে। ১২৬ মে.টন চাল বিক্রি করে যার টাকার মূল্য হয়েছিল ৪০ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। অভিযোগে জানান গেছে, প্রকল্প চেয়ারম্যান মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ৫ জন ড্রেজার মেশিন ওয়ালার (হামিদুল,সাইদুর ও শাহীন মিয়াসহ) সাথে চুক্তি করে ৫ লক্ষ টাকার চুক্তির বিনিময়ে মাটি ভরাট কাজটি সমাপ্ত করেন। শেষ বিল উত্তোলনের পূবেই ভিটার ৩ দিক থেকে বন্যায় ভেঙ্গে যায়। তবু প্রশাসন সরে জমিনে পরিদর্শন দেখিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে শেষ বিল পাশ করে দেন।

তবে কোন জমির উপর গুচ্ছ গ্রাম হচ্ছে তেমন কোন তথ্য নেই মোহনগঞ্জ ভুমি অফিসে। সেটি জানালেন মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান। গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্প সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে,পশ্চিম-উত্তর,উত্তর-পূর্ব দিকে নদী ভেঙ্গে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। তিন পাশে প্রবাহমান ব্রহ্মপুত্র নদ। সেখানে ৩ একর জমির মধ্যে দেড় একর জমিতে মাটি ভরাট করা হয়েছে। বাকী দেড় একর জমিতে দ্বিতীয় দফায় মাটি ভরাট করা হবে।

বর্তমানে ভিটের উপর ৮টি নদী ভাঙ্গা পরিবারে ২৫ জন সদস্য অস্থায়ী ভাবে বসবাস করছে। সেখানে বসবাসরত চান মিয়া ,মধূ মিয়া ,ওয়াসিম,মোতালেব ,মহর আলী, ইব্রাহিম ও মাইদুল জানান,আমরা ৩ মাস আগে থেকে এখানে বসবাস করছি। এখানে এসেই দেখি ভিটের মাটি নদীতে ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মোহনগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, যখন প্রকল্পটি দেওয়া হয়েছিল ,তখন ষেখানে নদী ছিল না। বন্যার কারণে একটি খাল বের হয়ে আসছে। এ ব্যাপারে রাজিবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান, কিছু অংশ বন্যার কারণে ভেঙ্গে গেছে। আর প্রকল্পটি করার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রাম ও রংপুর গুচছ গ্রাম প্রকল্প কর্মকর্তার অনুমোতিতেই প্রকল্পটি পাশ হয়েছে।

আর যে টুকু ভেঙ্গে গেছ্ েতার মেরামত করা হবে। তা ছাড়া বর্তমানে ৩০টি ঘর তৈরির মালসামানা ক্রয় করা হয়েছে। উপজেলাতে ঘর তৈরির কাজ চলছে। যার বরাদ্ধ প্রায় পনে ৩ কোটি টাকা। কেন নদী ভাঙ্গন এলাকায় গুচ্ছ গ্রাম দেওয়া হল এবং কেনই বা পুনরায় কাজ হচ্ছে। তার সদত্তোর মেলেনি কোন প্রশ্নের উত্তর। এ ব্যাপারে রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীউল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে কিছু অংশ ধ্বসে গেছে। তা পুলণ করে দেওয়া হবে।আপনারা যা তথ্য নিবেন পিআইও সাহেবের নিকট থেকে নিবেন। এ ব্যাপারে রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো জানান,কোথায় গুচ্ছ গ্রাম হচ্ছে তা আমি জানিন্ াতবে এলাকার লোকজন অভিযোগ করছে, সেটি নাকি ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয় বোর্ডের কর্মকর্তার সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পটি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সরে জমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকাবাসী জোড় দাবী জানিয়েছেন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট। তা না হলে ওই ইউনিয়নের নাওশাল আশ্রয়ণ প্রকল্পের মত নদী গর্ভে বিলিন হবে।সরকারের কয়েক কোটি টাকা গুচ্চা যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য