সামরিক বাহিনী মালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার নিন্দার মিছিলে জাতিসংঘও যোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে বিদ্রোহী সেনারা মালির প্রেসিডেন্ট ভবনে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকর কেইতা ও প্রধানমন্ত্রী বুবু সিসাসহ আরো কয়েকজনকে রাজধানী বামাকোর নিকটবর্তী একটি সামরিক শিবিরে ধরে নিয়ে যায়। তার কয়েক ঘণ্টা পর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কেইতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং সরকার ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত ঘোষণা করেন।

বিবিসি জানায়, এই পরিস্থিতিতে আফ্রিকার আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর কথার প্রতিধ্বনি করে বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও আটক সব সরকারি কর্মকর্তার আশু মুক্তি ও সাংবিধানিক শাসন পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।

মালির বিদ্রোহী সেনারা জানিয়েছে, দেশে বিশৃঙ্খলা আরও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বেসামরিক সরকার গঠন করে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

কিন্তু আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) মালিকে বহিষ্কার করে বলেছে, “সামরিক অভ্যুত্থান অতীতের বিষয়, এটিকে আর আমরা মেনে নিতে পারিনা।

“যখনই কোনো দেশ সংকটে পড়বে আর সামরিক বাহিনীর লোকজন অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বলবে ‘আমরা জনগণের ইচ্ছায় সাড়া দিচ্ছি’, সাড়া দেওয়ার এই উপয়াটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,” এইউ-র শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার স্মাইল চেরগুই বিবিসিকে এমনটি বলেছেন।

ওই অঞ্চলের ১৫টি দেশ নিয়ে গঠিত দ্য ফিফটিন-নেশন ইকনোমিক কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকা স্টেটস (ইসিওডব্লিউএএস) মালির বিরুদ্ধে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে, সীমান্ত বন্ধ, অর্থনৈতিক প্রবাহ স্থগিত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ পরিষদগুলো থেকে দেশটিকে বের করে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক টুইটে অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছেন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মালির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নতুন সামরিক জান্তা নিজেদের ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য স্যালভেইশন অব দ্য পিপল (সিএনএসপি)’ বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং কর্নেল আসিমি গোইতাকে এর প্রেসিডেন্ট করেছে।

মালির একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, বুধবার সকালে তিনি দেশটির ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বলেছেন, “আমাদের কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই, আমরা সৈনিক, আমাদের উদ্দেশ্য দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর।”

বিদ্রোহী সেনাদের নেতৃত্বে আর যারা আছেন বলে শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে কর্নেল মালিক দিয়াও সিএনএসপি-র ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছেন আর দেশটির বিমান বাহিনীর উপপ্রধান কর্নেল ইসমাইল ওয়াগি এই গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে একটি বিবৃতি পড়ে শুনিয়েছিলেন।

এদিকে মালির বিরোধীদলীয় এমফাইভ আন্দোলনের নেতা, রক্ষণশীল ইমাম মাহমুদ ডিকো অভ্যুত্থানকারী সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর রাজনীতি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা পরিষ্কার করেননি।

গণআন্দোলনের মুখে কেইতা ঐক্য সরকার গঠনসহ বেশ কিছু ছাড়ের প্রস্তাব দিলেও এই ডিকো সেসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মালি সাহারা মরুভূমিতে বিস্তৃত একটি বিশাল দেশ হলেও বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর অন্যতম। সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণ এখানে নতুন কোনো ঘটনা নয়, আগেও বেশ কয়েকবার দেশটিতে এমন ঘটনা ঘটেছে। মালি এখন ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলার মোকাবেলা ও গোষ্ঠীগত হানাহানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় আছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন কেইতা। ‍কিন্তু জুন থেকে দুর্নীতি, অর্থনতিক অব্যবস্থাপনা ও আইনসভার বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলে আসছিল।

জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াই ও বেতন নিয়ে সেনাদের মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য