যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে তার উত্তরসূরী ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে রিপাবলিকান দলীয় এ প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘উপযুক্ত নন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন, মার্কিন গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে নভেম্বরের নির্বাচনে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকেই ভোট দেওয়া দরকার।

ওবামা করোনাভাইরাস মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি মৃত্যু, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে লাখ লাখ মানুষের চাকরি হারানো এবং দেশে-বিদেশে মার্কিন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ভুলুণ্ঠিত করারও দায় ট্রাম্পকে দিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

“কাজ করার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি তার; ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জায়গা খোঁজা, নিজের এবং নিজের বন্ধুদের ছাড়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কাউকে সাহায্য করার কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। প্রেসিডেন্টের কাজকে আরেকটি রিয়েলিটি শো বানিয়ে এবং একে ব্যবহার করে নিজের দিকে মনোযোগ টেনে নেওয়া ছাড়া তার অন্য কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি,” বুধবার রাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনের তৃতীয় রাতে দেওয়া বক্তৃতায় ওবামা এমনটাই বলেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টদেরকে সাধারণত উত্তরসূরীদের নিয়ে সমালোচনা করতে দেখা যায় না। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের বেশিরভাগ অংশজুড়ে ওবামাও এ রীতি মেনে চলেছিলেন; তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বেশ কয়েকবারই দায়িত্বরত প্রেসিডেন্টের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা গেছে।

অবশ্য পূর্বসূরীকে আক্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাম্পকে কখনোই তেমন দ্বিধান্বিত দেখা যায়নি। রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট প্রায়ই ওবামার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন; যদিও সেসব অভিযোগের সপক্ষে কখনোই কোনো প্রমাণ দেননি তিনি।

ওবামার বক্তৃতায় দুই দিন আগে একই সম্মেলনে তার স্ত্রী মিশেলের বলা কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদের ‘অনুপযুক্ত’।

“তিনি সে লোক হতে পারেন না, যাকে আমাদের দরকার। ডনাল্ড ট্রাম্প এ কাজের জন্য যোগ্য নন, কেননা তিনি পারছেন না; আর তার ব্যর্থতার পরিণতি ভয়াবহ,” বলেছেন ওবামা।

ডেমোক্র্যাট সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি নিয়ে টুইটারে সরব ছিলেন ট্রাম্পও। বাইডেনের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে থাকা অন্যরা বাদ পড়ার আগে ওবামা তার আমলের ভাইস প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেননি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু বুধবার রাতে দেওয়া বক্তৃতায় জো বাইডেন ও তার রানিং মেট কমলা হ্যারিসের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন ওবামা। বলেছেন, “তারা প্রত্যেক মার্কিনির বিষয়ে যত্নশীল। গভীরভাবে যত্নশীল মার্কিন গণতন্ত্রের বিষয়েও।”

৭৭ বছর বয়সী বাইডেনকে মঙ্গলবার রাতেই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়বেন।

দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ছাড়া ৫৯ বছর বয়সী ওবামা তার বক্তৃতায় বাইডেনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন; আট বছর ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে বাইডেন ধীরে ধীরে তার ‘ভাই’ হয়ে উঠেছিলেন, বলেছেন ওবামা।

“আট বছর, যখনই আমাকে কোনো বড় সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, জো ছিলেন কক্ষে থাকা শেষ ব্যক্তি। তিনিই আমাকে ভালো প্রেসিডেন্ট বানিয়েছেন; আমাদের দেশকে আরও উন্নত করতে যেই যোগ্যতা দরকার তার সেই ব্যক্তিত্ব ও অভিজ্ঞতা আছে,” বলেছেন তিনি।

ফিলাডেলফিয়ার মিউজিয়াম অব আমেরিকান রেভ্যুলেশন থেকে ভার্চুয়াল সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ওবামা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সবাই মিলে যে একটি মাত্র সাংবিধানিক পদে কাউকে নির্বাচন করে, তা হল প্রেসিডেন্ট।

“এ কারণে ন্যূনতম হলেও, আমরা একজন প্রেসিডেন্ট প্রত্যাশা করি, যিনি আমাদের ৩৩ কোটি নাগরিকের সবার নিরাপত্তা ও কল্যাণের দায়িত্ব অনুভব করবেন। এমন একজন প্রেসিডেন্টের প্রত্যাশা করি, যিনি হবেন গণতন্ত্রের রক্ষক। ট্রাম্প এসব পরীক্ষায় ফেল করেছেন,” বলেছেন ওবামা।

সাবেক এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবেগঘন কণ্ঠে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান মিত্ররা তাদের নীতি ভালো কি মন্দ সে বিষয়ে রায় জনগণের হাতে ছেড়ে দেওয়ার বদলে চমক ও ভোটের গুরুত্ব কমানোর মাধ্যমে জয়লাভ করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

“তাদেরকে আপনার ক্ষমতা নিয়ে যেতে দিয়েন না। আপনার গণতন্ত্রকে নিয়ে যেতে দিয়েন না। কীভাবে আপনি সম্পৃক্ত হবেন ও ভোট দেবেন, তা নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করুন,” বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য