যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমলা হ্যারিসকে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

৫৫ বছর বয়সী এ রাজনীতিকই দেশটির প্রধান দুই দলের মধ্যে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও প্রথম এশীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করছেন।

বুধবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনের তৃতীয় রাতে দলীয় মনোনয়ন গ্রহণ করেন ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর কমলা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, নভেম্বরের নির্বাচনে জো বাইডেনকে বেছে নিতে মার্কিন ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মহামারীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ধ্বংসের জন্য বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বেরও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি।

কমলা বলেছেন, ট্রাম্পের বিভাজনের নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বাঁক বদলের বিন্দুতে’ নিয়ে এসেছে। রিপাবলিকান এ প্রার্থীকে হারাতে ডেমোক্র্যাটদের সব অংশকেই বাইডেনের পক্ষে দাঁড়াতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

“আমাদের এমন একজন প্রেসিডেন্টকে নির্বাচিত করতে হবে, ভবিষ্যতে যা আমরা চাই, তা অর্জনে যিনি আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন; কালো, সাদা, লাতিন, এশিয়ান, আদিবাসী সবাইকে। আমাদের জো বাইডেনকে নির্বাচিত করতেই হবে,” বাইডেনের শহর ডেলাওয়্যারের উইলমিংটনের একটি অনুষ্ঠানস্থল থেকে দেওয়া বক্তৃতায় বলেছেন কমলা।

বুধবার রাতে ডেমোক্র্যাট সম্মেলনে বক্তা, মডারেটর ও বিভিন্ন পর্বে নারীদের অংশগ্রহণই বেশি ছিল; এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টিরও প্রদর্শনী হয়েছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে বাইডেনকে ট্রাম্প থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে দেখা গেলেও নারী ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর অবস্থান বেশ শক্তিশালী বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

৭৭ বছর বয়সী বাইডেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে, তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সবচেয়ে বয়সী রাজনীতিক। যে কারণে এক মেয়াদের বেশি তার হোয়াইট হাউসে থাকার সম্ভাবনা কম বলেও অনেকে মনে করছেন। সেক্ষেত্রে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে কমলার সম্ভাবনাই সবচেয়ে উজ্জ্বল, বলছেন পর্যবেক্ষকরা।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় কমলা বলেন, তিনি প্রার্থী হয়ে ইতিহাস গড়তে পেরেছেন তার আগে কঠোর পরিশ্রম করে যাওয়া সেই নারীদের জন্য, যারা ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়েছিল।

“তারা সংগঠিত হয়েছিলেন, মিছিল করেছিলেন, লড়েছিলেন- কেবল ভোটের জন্যই নয়, টেবিলে আসন পাওয়ার জন্যও,” বলেছেন তিনি।

২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হওয়া হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, অনেক ভোটারকেই তিনি এখন চার বছর আগের নির্বাচনে ভোট না দেওয়ায় কিংবা ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ায় আফসোস করতে দেখছেন।

সাবেক এ ফার্স্ট লেডি সেবার ‘পপুলার ভোটে’ জিতলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঠিক হয় যে পদ্ধতিতে সেই ‘ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে’ ট্রাম্পের কাছে হেরে গিয়েছিলেন।

“হতে পারতো, হতো, হওয়া উচিত ছিল- এবারও এমন নির্বাচন হতে পারে না। যাই হোক না কেন, ভোট দিন। ভোট দিন এমনভাবে, যেন এর উপর আমাদের জীবন ও জীবিকা নির্ভর করছে, কেননা সত্যিই তা নির্ভর করছে,” বলেছেন হিলারি।

বাইডেনকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান তিনিও জানিয়েছেন।

“জো ও কমলা ৩০ লাখ ভোট বেশি পেয়েও পরাজিত হতে পারে। আমার কাছ থেকে শুনুন। আমাদের ব্যাপক ভোট দরকার যেন ট্রাম্প ছিনতাই বা চুরি করে জিততে না পারে,” বলেছেন হিলারি।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ম্যাসাচুসেটসের একটি শিশু সদন থেকে দেওয়া বক্তৃতায় মনোনয়ন লড়াইয়ে বাইডেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিশুসেবা আরও সাশ্রয়ী করার প্রসঙ্গে বাইডেনের প্রস্তাব তুলে ধরে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর হয়ে ভোট চেয়েছেন।

“কোভিড-১৯ ছিল ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তিনি সেখানে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। জো ও কমলা যুক্তরাষ্ট্রের সব পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও উঁচুমানের শিশুসেবা নিশ্চিত করবে; সার্বজনীন প্রি স্কুল হবে, প্রতিটি শিশুসদন কর্মীর বেতন বাড়বে,” বলেছেন ওয়ারেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য