ফুলবাড়ী (দিনাজুপুর )প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের জায়গা অবৈধ্য ভাবে দখলে বাঁধা দেয়ায়, দখলকারী মহিলা পৌর কাউন্সিলরের বাহিনীর হামলায় সরকারী কলেজের এক শিক্ষক ও ৯জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় পৌর শহরের বটতলী মোড়ে সরকারী কলেজের জায়গা দখল করে টিনসেট ঘর নির্মান করতে বাধা দেয়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপর হামলার প্রতিবাদে সরকারী কলেজের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে দিনাজপুর-গবিন্দগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়ক অবোরোধ করে। দুপুর একটায় ফুলবাড়ী থানার ওসি ফকরুল ইসলাম হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের প্রতিশ্রুতি দেয়ায়, অবোরোধ প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

পৌর কাউন্সিলর ও তার লোকজনের হামলায় আহতরা হলেন ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক এরশাদ হোসেন, কলেজের দর্শন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মন্সুর পারভেজ, একই বিভাগের সাগর হোসেন, মানবিক শাখার স্নাতক বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন, একই বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিম আহম্মেদ, সাজ,ু মেহেদী হাসান, সাব্বির ও শুভ। তারা সকলে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুল হক বলেন পৌর কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম দির্ঘদিন থেকে ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের জায়গা অবৈধ্য ভাবে জবর দখল করে ঘরবাড়ী ও দোকান পাঠ করেছিল, রাস্তা প্রসস্তের সময় উচ্ছেদ অভিযানে তার অবৈধ্য দখল করা জায়গা উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন বুধবার সকাল থেকে উদ্ধার করা জায়গায় আবোরো ঘর নির্মান শুরু করে পৌর কাউন্সিলর রোকেয়া বেগম। এই ঘটনায় কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক এরশাদ হোসেন বাধা দিতে গেলে পৌর কাউন্সিরর রোকেয়া বেগম ও তার সাথে থাকা লোকজন শিক্ষক এরশাদ হোসেনের উপর হামলা করে আহত করে। এরপর শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে পৌর কাউন্সিলর লোকজন দিয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়, এই কারনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী নাসিম আহম্মেদ বলেন শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে পৌর কাউন্সিলর রোকেয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়, এই কারনে তারা হামলা ও কলেজের জায়গা অবৈধ্য দখলের প্রতিবাদে রাস্তা অবোরোধ করে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর কাউন্সিরর রোকেয়া হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষক পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে, কিন্তু সরকারী কলেজের জায়গা কেন দখল করছেন এই প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেয়নি।

ফুলবাড়ী থানার ওসি ফকরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা অবোরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে, তারা অবোরোধ প্রত্যাহার করে নেন। তিনি বলেন ঘটনা তদন্ত করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন পৌর কাউন্সিরর রোকেয়া বেগমসহ কয়েকজন ব্যাক্তি সরকারী কলেজের জায়গা দখল করে দোকান-পাট ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে, সরকারী উচ্ছেদ অভিযানে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলেও, তারা আবোরো দখল করা শুরু করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য