মোঃ জাকির হোসেন, নীলফামারী সংবাদাতাঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে এরশাদ নামে ৩৭ বছর বয়সী এক যুবক কর্তৃক ৭ বছরের একটি কন্যা শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় সৈয়দপুর থানায় করা ওই মামলার আসামী পলাতক রয়েছে। ১৯ আগস্ট নীলফামারী সদর হাসপাতালে শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা যায়, গত ঈদুল আজহার পরের দিন এরশাদ নামের ওই যুবক শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষনের পরে তাকে ভয় দেখিয়ে কাউকে বলতে মানা করে। বাচ্চা মেয়েটিও কাউকে কিছু বলে না ভয়ে। এদিকে ধর্ষনের পর থেকেই মেয়েটির পেটে ব্যাথা শুরু হয়।

বিভিন্ন ওষুধ খাইয়েও যখন পেট ব্যাথা কমে না, তখন মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ডাক্তার মেয়েকে চেকাপ করে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ব্যাপারটা মেয়ের বাবা মা কে জানান। মেয়ের বাবা মা মেয়ের কাছে জানতে চাইলে মেয়েটা গতকাল (১৮ আগস্ট) বিকেলে সব খুলে বলে।

এই খবর শোনার পরে এতদিন বুক ফুলিয়ে চলা ধর্ষক বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি বাড়ির একমাত্র কন্যা সন্তান। বয়স সবে মাত্র সাত। গত ১৭ দিন ধরে কোন কথাই বলছেনা সে। এমনকি যে কোন পুরুষকে দেখলেই আতকে ঊঠছে। এর মাঝে শরিরের ক্ষত স্থানে তীব্র ব্যাথা ও জ্বর নিয়ে দিন মজুর পিতা প্রতিদিন তাকে নিয়ে ছুটোছুটি করত চিকিৎসকের চেম্বারে-চেম্বারে।

এভাবে অর্ধমাস পর এখন অনেকটা সুস্থ্য। তবে শিশুটির নিস্তব্ধতা ও ভয় কাটেনি। অবশেষে অনেক বুঝানোর পর তার নিরাপদ ভরসাস্থল বাবা-মায়ের কাছে মুখ খুলেছে। বাড়ির পাশের অপর খেলার সাথির চাচার দ্বারা সে পাশবিক নির্যাতনের স্বিকার।

উপায়ন্তর না পেয়ে স্থানিয় কাউন্সিলরের পরামর্শে বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১২ টায় সৈয়দপুর থানায় গিয়ে লম্পট ওই যুবক এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবার।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, শহরেরর পৌর ৫ নং ওয়ার্ডের মুন্সি পাড়া এলাকার প্রতিবেশি শিশুর বাড়িতে খেলত যেত ৭ বছেরর ওই শিশু। প্রতিদিনের ন্যায় ঈদুল আজহার পরের দিন দুপুরে ওই বাড়িতে খেলতে যায়। এ সময় ওই বাড়িতে একা পেয়ে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে ধর্ষন করে।

প্রতিবেশি শিশুর চাচা এরশাদ (৩৫)। এতে সে মারাত্বক অসুস্থ্য হলে বাড়ির অন্য ঘরে অবস্থান করা তার ভাবি মনি আশরাফি শিশুটিকে আহতাবস্থায় তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেয় এবং প্রতিদিন শিশুটির শারিরিক অবস্থার খবর নেয়। তবে তারা এ ঘটনার কথা স্বিকার করেনি।

এ নিয়ে ওই ওয়াডের কাউন্সিলর শেখ মোহন জানান, এ ঘটনা শুনার পরই আইনি সহায়তার জন্য নির্যাতনের শিকার অসুস্থ শিশুর বাবা-মা’সহ থানায় গিয়ে লম্পট ওই যুবক এবং তার ভাবির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি।

এ ঘটনায় লিখিত এজহার প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চত করেন সৈয়দপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ আতাউর রহমান।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল হাসনাত খান জানান, শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য নীলফামারী জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সার্বিকভাবে সচেস্ট রয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য