ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার বন বিভাগ নিয়ে গঠিত মধ্যপাড়া রেঞ্জটি এখন গাছ খেকোদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। বন কর্মকর্তাদের যোগসাজজে প্রভাবশালীদের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শালকাঠসহ বনের মূল্যবান কাঠ। দেখেও না দেখার ভান করছে বনকর্মকর্তারা।

জানাগেছে গত ১৫ আগষ্ঠ যখন সকলে শোক দিবসের কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত, তখন বনের শালকাঠসহ অনান্য কাঠ বহন করতে গিয়ে পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নে কালিকাপুর গ্রামে দুর্ঘটনায় পতিত হয় একটি কাঠবাহী ট্রাক্টর। সেই দুর্ঘনায় নাজমুল হাসান (২৫) নামে এক গ্রামবাসী আহত হলে ওই গ্রামের বাসীন্দারা কাঠবাহী ট্রাক্টরটিকে আটক করে, এতেকরে বিপত্তি ঘটে কাঠ মালিকদের।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ট্রাক্টরটিতে বহন কৃত অধিকাংশ বনের শালকাঠ। গ্রামবাসীরা জানায় কাঠগুলো ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য, তাদের সাথে গত তিন দিন প্রর্যন্ত তদ্বীর করে, ফুলবাড়ী উপজেলার এক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের। কাঠের মালিক সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যান যে কোন মূল্যে কাঠগুলো সরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করায় গ্রাম বাসীদের সন্দেহ হয়। কালিকাপুর গ্রামের বাসীন্দা অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য রইচ উদ্দিন বলেন ফুলবাড়ী উপজেলার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাঠ গুলো ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য দুর্ঘটনায় আহত নাজমুলের চিকিৎসা বাবদ খরচ দেয়ার চেষ্ঠা করে, কিন্তু কাঠ গুলো শালকাঠ হওয়ায়, তিনি পুলিশকে খবর দেন।

গ্রামবাসীদের নিকট খবর পেযে গতকাল সন্ধায় ভবানীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে কাঠ বোঝাই ট্রক্টরটি জব্দ করে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসে। পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি মখলেছুর রহমান বলেন ট্রাক্টরটি দুর্ঘটনা ঘটিয়ে একজনকে আহত করায় তারা ট্রাক্টরটিকে আটক আটক করে, কিন্তু ওই ট্রাক্টরে শাল কাঠ থাকায় তারা বন কর্মকর্তাকে অবহিত করেছেন, কিন্তু মঙ্গলবার প্রর্যন্ত বন কর্মকর্তারা কোন পদক্ষেপ ও বা অভিযোগ করেনি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ওই ইউপি চেয়ারম্যান দাবী করেন ঝড়ে পড়ে যাওয়া এই কাঠগুলো ভবানীপুর বীট কর্মকর্তা তার নিকট বিক্রি করেছে। এই বিষয়ে ভবানীপুর বীট কর্মকর্তার নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন, এরপর ঘটনাটি জানতে চেয়ে মধ্যপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মকসেদ আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, ঘটনাটি তার জানা নেই বলে কেটে দেন। এরপর তিনি আর মোবাইল রিসিভ করেনি।

এদিকে সরজমিনে দেখা যায়, মধ্যপাড়া রেঞ্জ এর অধিনে সদর বীট,আফতাবগঞ্জ বীট, ভবানীপুর বীটসহ বিভিন্ন বীট কার্য্যলয়ের কোল ঘেষে গড়ে উঠেছে একাধীন স্ব-মীল। অভিযোগ উঠেছে, এই সকল স্ব-মীলে প্রতিদিনে হাজার হাজার গাছ কর্তন করা হয়, এলাকাবাসীরা জানায় অধিকাংশ স্ব-মীলে বনের চোরাই কাঠ কাটা হয়। এই বিষয়ে কথা বললে, বীট কর্মকর্তাগণ মামলা দেয়া হয়েছে বলে তাদের দায় এড়িয়ে যায়।

এলাকার সচেতন মহল বলছেন বন কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় প্রতিদিনে উজাড় হচ্ছে বন, আর দখল হয়ে যাচ্ছে বনের জায়গা।

মধ্যপাড়া রেঞ্জ কার্য্যলয় সুত্রে জানা গেছে মধ্যপাড়া রেঞ্জে ৫টি বীটে ২৬ হাজার এখর জমি থাকলেও, এখন বন আছে ১২ হাজার একর । বাকি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে, কৃষি ক্ষেত ঘরবাড়ী ও হাট-বাজার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠান। তাই বনের জায়গা ও বন রক্ষার দাবী জানিয়েছে এলাকার সচেতন মহল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য