প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছুড়ে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থী জো বাইডেনের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা।

রিপাবলিকান ট্রাম্প চলতি চার বছরের মেয়াদে যে পরিমাণ ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টি করেছেন, তার ইতি টানতে ভোটারদের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে বেছে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

সোমবার ডেমোক্র্যাট দলের জাতীয় সম্মেলনের প্রথম রাতে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় মিশেল এসব কথা বলেছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

“তিনি যে (প্রেসিডেন্টের) কাজ চালাতে পারেন, তা প্রমাণের জন্য প্রচুর সময় পেয়েছিলেন; কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারী, অর্থনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি আর বর্ণবৈষম্যের চক্করে ঘুরপাক খাওয়া একটি দেশের সময়ের চাহিদা পূরণ করতে পারেননি,” বলেছেন তিনি।

ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল প্রেসিডেন্ট’ অ্যাখ্যা দিয়ে সাবেক এ ফার্স্ট লেডি বলেছেন, “যখনই আমরা হোয়াইট হাউসের দিকে নেতৃত্ব কিংবা সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য তাকিয়েছি কিংবা স্থিরতা দেখতে চেয়েছি, তখনই আমরা পেয়েছি বিশৃঙ্খলা, বিভক্তি এবং সহমর্মিতার ভয়াবহ ঘাটতি।

“তিনি সেই লোক নন, যাকে আমাদের প্রয়োজন। বিষয়টা এরকমই। আপনাদের যদি মনে হয়, পরিস্থিতি এর চেয়ে খারাপ হওয়া সম্ভব নয়; বিশ্বাস করুন, এর চেয়েও খারাপ হতে পারে। তারা তা করবে, যদি না এ নির্বাচনে আমরা পরিবর্তন আনতে পারি। এই বিশৃঙ্খলা বন্ধের কোনো আশা যদি আমাদের থাকে, তাহলে জো বাইডেনকে এমনভাবে ভোট দিতে হবে যেন আমাদের জীবনও এর উপর নির্ভর করছে,” বলেছেন তিনি।

মিশেলের স্বামী বারাক ওবামা ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সেসময় জো বাইডেন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

সোমবার রাতে মিশেল ছাড়াও ডেমোক্র্যাট পার্টির মনোনয়ন লড়াইয়ে বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বীরা এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর জন ক্যাসিচসহ কয়েকজন রিপাবলিকানও নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে হারিয়ে বাইডেনকে জেতাতে অনুরোধ করেছেন।

করোনাভাইরাস মহামারীজনিত পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাটদের এবারের চারদিনের কনভেনশন অনলাইনে হচ্ছে। এ কনভেনশন থেকেই বাইডেন ও কমলা হ্যারিসকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন দেওয়া হবে।

মহামারীর কারণে নভেম্বরে নিরাপদে ভোট আয়োজন সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের এ কনভেনশন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ বিকল্প হিসেবে ডাকযোগে ভোটগ্রহণের জন্য ডেমোক্র্যাটরা চাপ দিলেও ট্রাম্প বলছেন, এ ধরনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির সুযোগ থাকে। তিনি ডাকযোগে ভোটের ব্যালট পরিবহনে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন পোস্টাল সার্ভিসের জরুরি তহবিলও আটকে দিয়েছেন।

মিশেল তার বক্তৃতায় এ প্রসঙ্গটিও এনেছেন। বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে যারা জিততে পারবে না, তারাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়ে, ভোটার তালিকা কাঁটছাট করে এবং ‘মেইল-ইন’ ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে মিথ্যা বলে জনগণকে ভোটদানে বিরত রাখতে চাইছে।

বাইডেনকে বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনের দিন ভোটারদেরকে আরামদায়ক জুতা ও মাস্ক পরার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ লাইন বিবেচনায় ব্যাগে করে রাতের খাবার এমনকী পরদিন সকালের নাস্তাও নিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এ ফার্স্ট লেডি।

“যদি থাকতে হয়, তাহলে সারা রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকারও ইচ্ছা থাকতে হবে আমাদের,” বলেছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাট কনভেনশনের উদ্বোধনী রাতের বক্তৃতায় মনোনয়ন লড়াইয়ে বাইডেনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বার্নি স্যান্ডার্সও ট্রাম্পকে হারাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

“ট্রাম্প যে বিদ্বেষ ও বিভাজন সৃষ্টি করেছেন, জো বাইডেন তা শেষ করবেন। তিনি অভিবাসীদের দানব হিসেবে রূপায়নের চেষ্টা প্রতিহত করবেন, বন্ধ করবেন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের প্রশ্রয় দান, বর্ণবাদী ঘেউ ঘেউ, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং নারীর প্রতি নির্লজ্জ আক্রমণ,” বলেছেন ভারমন্টের এ সিনেটর।

ডেমোক্র্যাটদের এবারের কনভেনশনে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা পর্বও রাখা হয়েছে, যেখানে মার্কিন নাগরিকরা করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই এবং কী করে ভগ্ন অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন তা বলবেন।

সোমবারের আলোচনায় কোভিড-১৯ এর কারণে পিতৃহারা ক্রিস্টিন উরকুইজা তার বাবার মৃত্যুর জন্য মহামারী মোকাবেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের অব্যবস্থাকে দুষেছেন।

“বাবা ছিলেন ৬৫ বছরের স্বাস্থ্যবান একজন মানুষ। তার একটিই সমস্যা ছিল, তা হল ডনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা, যার মূল্য তাকে জীবন দিয়ে চুকাতে হয়েছে। এবার যখন আমি জো বাইডেনকে ভোট দিবো, আমি ভোট দিবো আমার বাবার জন্য,” বলেছেন এ নারী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য