এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তরুণদের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়াচ্ছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশেষ করে যেসব তরুণের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার পরও উপসর্গ থাকে না, তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য বেশি হুমকি তৈরি করছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক তাকেশি কাসাই এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ। এরইমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। এ মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছিল, বিশ্বজুড়ে তরুণদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমাগত বাড়ছে। আর এতে যেসব এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ ও স্বাস্থ্যসেবার মান নাজুক, সেখানকার বয়স্ক ও অসুস্থরা সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন। আর মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সংস্থাটি জানিয়েছে, তরুণরা ক্রমাগত সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক তাকেশি কাসাই বলেন, ‘মহামারি পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে। যেসব মানুষের বয়স ২০, ৩০ কিংবা ৪০ এর কোটায়, তারা ক্রমাগত সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এদের অনেকেই জানে না যে তারা আক্রান্ত। আর এর মধ্য দিয়ে নাজুক স্বাস্থ্যের অধিকারীদের ঝুঁকি বাড়ছে।’

বেশ কিছুদিন ধরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার পরও কিছু কিছু দেশে নতুন করে ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ভিয়েতনামের কথা বলা যায়। দেশটিতে তিন মাস ধরে কাউকে অভ্যন্তরীণভাবে সংক্রমিত হতে দেখা না গেলেও সম্প্রতি সেখানে নতুন করে বিস্তার দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে কাসাই বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা সাধারণ কোনও নতুন সংক্রমণের ঘটনা নয়। আমরা মনে করছি এটি একটি সংকেত। এর মধ্য দিয়ে বুঝে নিতে হবে যে আমরা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মহামারির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছি।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য