দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতকরণে পৌরসভার মহাসড়কের পাশে ও বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ও মাস্ক ব্যবহার না করায় ৫০ ব্যক্তিকে ৫০টি মামলায় মোট ৫২২০টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ডালিম সরকার। সহাকরী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ডালিম সরকার জানান, চলমান করোনা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সর্বসাধারণকে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামৃলক করতে মোবাইলকোর্টে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কাহারোলঃ দিনাজপুরের কাহারোলে মুখে মাস্ক না পড়ার দায়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল হাসান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কাহারোলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি এসব জরিমানা করেন। এরমধ্যে উপজেলার কাহারোল বাজার, দশমাইল ও বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় মুখে মাস্ক না পড়ার দায়ে দোকানদার, পথচারী, মোটরসাইলে আরোহী ও গাড়ী চালক সহ ২২ জনকে জরিমানা করে ১০ হাজার ২শত টাকা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি এসব বাজারে মাস্ক ছাড়া আগত ব্যক্তিদের মাস্ক পড়তে বাধ্য করা হয় এবং মাস্ক পরিহিত গ্রাহক ছাড়া পণ্য বেচা-কেনা না করতে দোকানদারদের বলা হয়।

নবাবগঞ্জঃ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। ১৬ আগস্ট রবিবার দুপুরে উপজেলা সদরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-মামুনের নেতৃত্বে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। এ সময় মাস্ক না পরা, মাস্ক ঝুলিয়ে রাখা, পকেটের রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সংক্রমণ আইনে এমন ৫০ জনের কাছ থেকে মোট ১৩ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল- মামুন এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্যে সতর্ক করেন। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

হিলিঃ দিনাজপুরের হিলিতে মাস্ক ছাড়া চলাচল করায় মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীসহ ৫৪ জনকে ৫৩ হাজার ৫৯৫ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড়ে অভিযান চালিয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রাফিউল আলম এই জরিমানা করেন।

রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রামণ রোধে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে ও মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করতে দুপুরে হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাস্ক ছাড়া চলাচল করায় ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় মোটরসাইকেল চালক ও পথচারীসহ ৫৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ঘোড়াঘাটঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করলেন, ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াহিদা খানম। ঘোড়াঘাট বাজার ও উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার এ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। মাস্ক ব্যবহার না করায় ৮৭ জনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়। গতকাল ঘোড়াঘাট বাজার ৩৭ জন ও ১৬ আগষ্ট উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার এর মহা সড়কে ৫০ জনের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাস্ক ব্যবহারের ওপর সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, শপিংমলগুলোতে বেশিরভাগ লোক তা মানছে না। সম্প্রতি জীবন ও জীবিকার তাগিদে লকডাউন তুলে নেওয়ার ফলে আগের মতোই চলছে মানুষের চলাফেরা। অনেকেই জীবিকার তাগিদে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই ঘরের বাইরে মাস্ক ছাড়াই চলাফেরা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমানে তৎপরতা অনেকটাই কম। এর ফলে সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্য বিধি ভঙ্গ করছে। গতকাল বিকেল সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোন বালাই নেই। বেশিরভাগ লোক মাস্কও ব্যবহার করছে না। কেউ কেউ মুখে না পরে গলায় ঝুঁলিয়ে রেখেছে। তারা গাদাগাদি করে দোকানগুলোতে ভিড় করছে। চায়ের দোকান ও সড়কগুলোতে করোনার মধ্যেও চলছে মানুষের আড্ডা। কারো মধ্যে নেই করোনার ভয়। অপর দিকে বাস, অটো বাইক, ইজিবাইক, অটো ভ্যান, রিক্সায় মাস্ক ছাড়ায় গাদাগাদি করে যাতায়াত করছে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনায় সন্ধা ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেট সীমিত পরিসরে খোলা রাখার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব না মেনে অধিক রাত পর্যন্ত তাদের দোকান খোলা রাখছেন। এলাকার সচেতন মহল বলছেন, সংসারের প্রয়োজনে হাট-বাজারে যেতে হয়। নিজে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরে বের হলেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার না করায় ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বলেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না। বিশেষ প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে, অন্যথা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। আমাদের প্রত্যেকের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য