যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডাকযোগে ব্যালট পেপার পরিবহনের দায়িত্ব মার্কিন পোস্টাল সার্ভিসের কাছ থেকে নিয়ে নিতে ইউনাইটেড পার্সেল সার্ভিস (ইউপিএস) ও ফেডএক্সের প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা যে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তা বিফলে গেছে।

শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠান দুটি ব্যালট পরিবহনে তাদের অপারগতা এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

“ওই ধরনের ব্যালটে পোস্টমার্ক থাকলেই কেবল সেগুলো বৈধ হবে। আর আইনত পোস্টমার্কিং করার ক্ষমতা কেবল মার্কিন পোস্টাল সার্ভিসেরই (ইউএসপিএস) আছে। যে কারণে ইউপিএস, ফেডএক্স বা অন্য কোনো বেসরকারি পক্ষ কার্যত ব্যালট পরিবহনে জড়িত থাকতে পারে না,” বলেছে ইউপিএস।

আর ফেডএক্স বলেছে, তারা ভোটারদের পাঠানো ব্যালট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেও এ নিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

“ফেডএক্সের মাধ্যমে ব্যালট পাঠানোর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমরা গ্রাহকদেরকে তাদের অঙ্গরাজ্যের ভোটদানে অনুপস্থিতি সংক্রান্ত নির্দেশনা এবং ব্যালট ও এ সংক্রান্ত নির্বাচনী কাগজপত্র পৌঁছে দেয়ার সময়সীমা ভালোভাবে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিচ্ছি,” বিবৃতিতে বলেছে ফেডএক্স।

করোনাভাইরাস মহামারীর দাপট অব্যাহত থাকলে ৩ নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ডাকযোগে ভোট দিচ্ছে ইচ্ছুকদের সংখ্যা বেড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ‘মেইল-ইন’ ভোটের সুবিধাদি নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাট পার্টিসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী ও পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলো চাপ দিচ্ছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, তিনি ‘মেইল-ইন’ ভোটের জন্যও ধুঁকতে থাকা পোস্টাল সার্ভিসকে তহবিল দিতে রাজি নন।

৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াকে লেখা চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগও সময়মত ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে জানিয়ে সতর্ক করেছে।

বৃহস্পতিবার পোস্ট করা এক টুইটে লেখক ও রেডিও উপস্থাপক ডেভিড রথকফ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিনামূল্যে ব্যালট পরিবহনের দায়িত্ব নিয়ে মার্কিন জনগণের ‘হৃদয় জিততে’ ইউপিএস ও ফেডএক্সকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন ।

“রাতারাতি আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রিয় ও শ্রদ্ধার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবেন,” বলেছিলেন তিনি। তার করা এই টুইট মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

রয়টার্স জানিয়েছে, বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ অংশেই ‘মেইল-ইন’ ও ‘অ্যাবসেন্টি ব্যালট’ পরিবহনে বেসরকারি ডেলিভারি কোম্পানির উপর নিষেধাজ্ঞা আছে বলে বিভিন্ন কোম্পানি ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

কোথাও কোথাও অবশ্য ‘অতি জরুরি’ ক্ষেত্রে এবং নির্বাচনের দিন বিকালের আগে ব্যালট পৌঁছানোর শর্তে এসব বিধিবিধানে ছাড়ও আছে।

“কারচুপির আশঙ্কায় কিছু কিছু রাজ্যে ব্যালট সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আছে,” বলেছেন অ্যারিজোনার সাবেক নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং ডেমোক্রেসি ফান্ড ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ট্যামি প্যাট্রিক।

কেবল আইনি জটিলতাই নয়, মহামারীর কারণে বিভিন্ন ই-কমার্স কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে না ওঠা বেসরকারি কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে ব্যালট পরিবহন করতে পারবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় আছে।

এমনিতেই বেসরকারি ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর পরিবহন খরচ পোস্টাল সার্ভিসের চেয়ে অনেক বেশি; লোকবলও কম।

মার্কিন পোস্টাল সার্ভিসের কর্মীরা যেখানে সপ্তাহের মধ্যে ছয়দিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি এলাকার প্রত্যেকটি ডাকবাক্স স্পর্শ করে; সেখানে অন্যান্য ডেলিভারি কোম্পানি কেবল মালামাল গ্রহণ করতে ও পৌঁছে দিতেই বাড়ি বা অফিসের ঠিকানায় হাজির হয়।

“বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে ব্যালট সংগ্রহ করবে সে সংক্রান্ত নীতিমালা ঠিক করাও বেশ চ্যালেঞ্জেরই হবে,” বলেছেন প্যাট্রিক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য