কথিত হত্যা ও লাশ গুমের ৯ বছর পর অবশেষে গাইবান্ধা সদরের রৌশন আরা বেগম রিক্তা নামে এক গৃহবধূকে জীবিত অবস্থায় রংপুর থেকে উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হয়রানি করার জন্য ‘রিক্তাকে নির্যাতনের পর হত্যা ও লাশ গুম’-এর মামলা করে বড় বোন মুক্তা বেগম। উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ বলছেন, স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে গত ৯ বছর পালিয়ে ছিলেন। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার। তিনি জানান, সদর উপজেলার পশ্চিম কুপতলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় একই এলাকার রৌশন আরা বেগম রিক্তার। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই যৌতুকের জন্য রিক্তার ওপর অত্যাচার করতে থাকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

এ অবস্থায় ২০১১ সালের ২২ জুলাই নিখোঁজ হয় রিক্তা। এ ঘটনায় রিক্তার স্বামী ও তার সহযোগীরা রিক্তাকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে বলে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন রিক্তার বড় বোন মোছা মুক্তা বেগম। মামলায় আসামি করা হয় রিক্তার স্বামী রফিকুল ইসলামসহ চার জনকে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে ওসি জানান, রিক্তার স্বামী যৌতুকের জন্য রিক্তাকে নির্যাতন করতো। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করেছে রিক্তার স্বামী রফিকুল ইসলাম। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন কারাবরণ করতে হয় রিক্তার স্বামীসহ অন্য আসামিদের। রিক্তার স্বামী কিছুদিন আগে গাইবান্ধা সদর থানায় এসে জানায় মিথ্যা অভিযোগে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে রিক্তা রংপুরের কোনও এক স্থানে আত্মগোপন করে আছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রিক্তার খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শুক্রবার ভোর রাতে রংপুরের শালবন এলাকা থেকে কথিত মৃত রিক্তাকে উদ্ধার করে।

ওসি আরও জানান, উদ্ধারের পর গৃহবধূ রিক্তা পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বলেছে। রিক্তা জানায়, স্বামী রফিকুলের অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে এতদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। তবে কোনও খোঁজখবর বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না বলেও জানায় রিক্তা।

বর্তমানে সদর থানায় পুলিশ হেফাজতে রয়েছে রিক্তা। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে হাজির করার কথা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য