ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বগড়গাঁওয়ে শালিশ বৈঠকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে চেয়ারম্যানসহ ৪ জন আহতের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার সিংহ (৫৫), গ্রাম্য পুলিশ আতাউর রহমান (৫৫), কুলসুম আক্তার (২৭) ও ফিরোজ (২৫)।

বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য পরেশ চন্দ্র জানান, ১০ বছর আগে সদরের বড়গাঁও ইউনিয়নের আরাজি সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের ছেলে সোহেল রানা সাথে পাশ্ববর্তী দেবীপুর ইউনিয়নের পয়সাফেলা গ্রামের মজিবর রহমানের মেয়ে কুলসুম আক্তারের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তাদের ঘরে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। দেড় মাস আগে বজ্রপাতে সোহেল রানার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, সোহেল রানার মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছ থেকে মেয়ের জন্য এক বিঘা জমি দাবি করে গৃহবধু কুলসুম আক্তার।

এনিয়ে কুলসুমের উপর নির্যাতন শুরু করে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। পরে কুলসুমের পরিবার ও প্রয়াত সোহেল রানার পরিবার একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে মিমাংশার চেষ্টা করলেও সমাধান হয়নি। সর্বশেষ প্রয়াত সোহেলের বাবা আব্দুল হামিদ বিষয়টি সমাধানের জন্য বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার সিং বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।

এরই প্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে উভয় পক্ষকে নিয়ে ইউপি পরিষদ চত্বরে শালিশ বৈঠকের আয়োজন করে চেয়ারম্যান। শালিশ বৈঠক চলাকালিন অবস্থায় কুলসুমের পরিবার ও প্রয়াত সোহেলের পরিবারের বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার সিং এগিয়ে গেলে তিনিসহ আরও ৩ জন আহত হন।

চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার সিংহ জানান, দুই পরিবারের পারিবারিক সমস্যা নিয়ে শালিশ বৈঠকে বসা হয়। এসময় উভয় পক্ষের লোকজন মারপিটে জড়িয়ে পরে। এটি আসলে দু:খজন ঘটনা। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ তানভিরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখান থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের ফৌ: কা: বিধির ১৫১ ধারায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য