আমেরিকার বিভিন্ন শহরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এখন কোনো কোনো শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গেরিলা ফাইট হচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে।

মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র শহুরে গেরিলাদের সংঘাত হচ্ছে যাদের পেছনে বামপন্থীদের সমর্থন রয়েছে। তিনি সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, তারা প্রথম থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করে এসেছে। ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে নামানো কিংবা তার সরকারকে দুর্বল করার জন্য সব রকম চেষ্টাই চালিয়েছে।

আমেরিকায় এই প্রথম কোনো কর্মকর্তা দেশের অভ্যন্তরে সরকার বিরোধী গেরিলা সংঘাতের কথা স্বীকার করলেন। মিনিয়াপোলিস অঙ্গরাজ্যে এক স্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর গত প্রায় ৭০ দিন ধরে সরকারের বর্ণবাদ ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে জনগণের বিক্ষোভ চলে আসছে। বিশেষ করে আমেরিকার ওরিগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরে রাতের বেলায় বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় স্থানীয় কর্মকর্তারা সেখানকার পরিস্থিতিকে বিপদজনক বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন বিদ্রোহ ক্রমেই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন কঠোর হাতে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করলেও উত্তেজনা তো কমেনি বরং পেট্রোল দেয়া আগুনের মতো বিক্ষোভ আরো জোরদার হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলও রাস্তায় রাস্তায় সশস্ত্র গেরিলা হামলা ও সংঘাতের খবর দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও এদেরকে সন্ত্রাসী এবং উগ্রপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সরকার বিরোধী প্রতিবাদের মাত্রা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।

বর্ণবাদী পুলিশের হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের বিক্ষোভ শুরু হয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে এরসঙ্গে সরকারের অর্থনৈতিক বৈষম্যমূলক নীতি ও দুর্নীতির বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে। এসব নিয়ে গত কয়েক দশক ধরেই জনগণের মধ্যে বিক্ষোভ বিরাজ করছিল এবং যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে তখনই বিক্ষোভ করেছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড জনগণকে আরো ক্ষিপ্ত করে তোলে। বর্তমান প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং গেরিলা সংঘাত ওই ক্ষোভেরই বহি:প্রকাশ।

যাইহোক, আমেরিকায় সামাজিক সংকট নিরসনে সরকার অচলাবস্থার সম্মুখীন হওয়ায় তারা এখন বিক্ষোভকারীদেরকে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী বলে প্রচার চালাচ্ছে। ওরিগন অঙ্গরাজ্যের সিনেটর রন ওয়াইডেন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওরিগন রাজ্যে ফেডারেল পুলিশ কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে সেখানকার পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করছেন এবং এর মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলেরও চেষ্টা করছেন।

যাইহোক ধারণা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে আমেরিকার রাস্তায় রাস্তায় সহিংসতা ও সংঘাত আরো বাড়তে পারে। কিছুদিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছিলেন, ডেমোক্রেটরা যদি নির্বাচনে বিজয় লাভ করে তাহলে আমেরিকার পতন ঘটবে এবং রক্তাক্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

প্রকৃতপক্ষে আমেরিকায় সব নাগরিকের হাতেই অস্ত্র রয়েছে। এ অবস্থায় একটু ভুলে যে কোনো সময় বিপর্যয়কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। সম্ভাব্য এ বিপর্যয়কে অনেকে আমেরিকায় দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ হিসেবে দেখছেন। -পার্সটুডে

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য