তৃতীয় দফা বন্যার কবলে কুড়িগ্রাম। গত চারদিন থেকে দ্বিতীয় দফার বন্যার পানি কমে সার্বিক পরিস্থিতি যখন স্বাভাবিক হচ্ছিল ঠিক তখনি আবার নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় তৃতীয় দফার বন্যার আভাস দিলো পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এবার ধরলা ও তিস্তার অববাহিকায় হতে পারে এ বন্যা। ইতিমধ্যে পানি বাড়তে শুরু করেছে এই দুই নদীর পানি। গেল ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ১৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে তিস্তারও পানি বাড়ছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহামুদ হাসান আরটিভি নিউজকে জানান, উজানে ভারতের গজাল ডোবায় গেল ২৪ ঘণ্টায় ৪৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সেই পানি নেমে আসার ফলে দুইদিন কুড়িগ্রামের ধরলা এবং তিস্তা এই দুই নদীতে পানি বাড়বে। এতে ধরলায় বিপদসীমার ৬০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া তিস্তায়ও সমহারে পানি বৃদ্ধি পাবে। দুই নদীর গতিবিধি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে দীর্ঘ একমাসের বেশি সময় ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে কুড়িগ্রামের ৫৬টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষ। আবার নুতুন করে বন্যার আশঙ্কায় চিন্তায় পড়েছে মানুষ।

অপরদিকে জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে প্রথমদফা বন্যায় ৯টি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের মোট ১৬ হাজার একশ’ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১১জন পানিতে ডুবে মারা যায়। দ্বিতীয় দফা বন্যায় ৫৬টি ইউনিয়নে ৬৩ হাজার ১৩০টি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে বলে জানানো হয়। বন্যায় পানিতে ডুবে মারা যায় আটজন। সর্বগ্রাসী বন্যায় ৩২টি পয়েন্টে সাত কিলোমিটার নদী ভাঙন হয়েছে। বন্যায় বীজতলা, আউশ, পাট, মরিচ ও শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাত হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমি।

বন্যার্তদের সহযোগিতায় রেসকিউ টিম, স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১০টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। জনস্বাস্থ্য থেকে দুটি মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ১৬০টি নলকুপ পরিদর্শন, দুটি নলকূপ স্থাপন, চার হাজার ২৭০টি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও ৬৮টি জেরিকেন সরবরাহ করা হয়।

বর্তমানে ১৩২টি আশ্রয়কেন্দ্রে তিন হাজার ৮৫৬টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। সৃষ্ট বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৬ হাজার পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ঈদুল আজহা উপলক্ষে চার লাখ ২৮ হাজার ৫২৫টি পরিবারের মধ্যে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য