আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ মাত্র এক দিন পরে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনা মহামারির কারণে কিছুটা কম হলেও এখন বিরাজ করছে ঈদের আমেজ। কিন্তু এ আমেজ পুরোপুরি উধাও হয়ে গেছে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের বানভাসি মানুষের।

তিস্তাপাড়ের বৃদ্ধা সুফিয়া বেওয়া বলেন, ‘বাহে একে তো করোনায় কাজ নাই। তার উপর বন্যার পানিত পানিবন্দি। হামার ফের কিসের ঈদ। হামার ঈদ তো বানোত ভাসি গেইছে বাহে। করোনার জন্যি কোন কাজ করির পাই নাই। একনা কষ্ট করি কিছু ফসল লাগাইছিনু তাও বন্যাত নষ্ট হইছে। এল্যা হামা কি করমো? হামার ঈদ টিত নাই।’

করোনার ভয়াল থাবা আর দফায় দফায় বন্যার কারনে পানিবন্দি এসব মানুষের মনে নেই কোন ঈদের আনন্দ। তাদের মনে আলাদা কোনও আনন্দ এনে দিতে পারছে না এবারের ঈদ। ভয়াবহ বন্যায় বানভাসিদের দিন কাটছে খেয়ে না খেয়ে। বন্যায় তাদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভিজিএফ, ভিজিডি ও বয়স্ক ভাতার অনুদানই এখন তাদের একমাত্র সম্বল।

এসব বানভাসি মানুষদের সঙ্গে কথা বলে শুধুই হতাশার ছবি দেখা গেছে। নিজের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েকে ঈদে নতুন কাপড় কিনে দিতে না পেরে এবারের ঈদকে আনন্দের বদলে বিষাদময় বলে অভিহিত করেছেন তিস্তা পারের শামসুল হক। শুধু শামসুল হক নয়, তার মতো অনেক বানভাসি মানুষের একই অবস্থা।

ঘরে খাবার নেই, তাই ঈদে ছেলে-মেয়েদের নতুন পোশাক বা পোলাও মাংস রান্নার ভাবনা নেই। নেই বাড়তি কোনও আয়োজন। পুরাতন কাপড়ে ঈদের দিনটাকে বছরের অন্য দিনের মতোই সাধারণ একটা দিন হিসেবে কাটাবেন তারা।

গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান জানান, চরের অভাবি এ মানুষগুলোর কাছে ঈদ যেন শুধুই স্বপ্ন। বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি সহায়-সম্বল সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এ ইউনিয়নের বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর ও শ্রমিক শ্রেণীর। বন্যার পানি উঠায় তাদের ঘরে রাখা ধান-চালও নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে গেছে ওদের ঈদ আনন্দ।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল আমিন জানান, ‘জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পানিবন্দিদের সার্বক্ষনিক খোঁজখবর নেয়া হয়েছে। তাদের মাঝে পর্যাপ্ত পরিমান ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ঈদ উপলক্ষে ১৩৫ মেঃ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য