আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় জিজ্ঞাসাবাদে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। গোবিন্দগঞ্জের চাঞ্চল্যকর স্কুল ছাত্রী গণ ধর্ষণের প্রকৃত ঘটনা। আসলে প্রেমিক শিমুল তার সহযোগি লম্পট সাদ্দামের সাথে পরিকল্পনা করেই প্রেমিক শিমুলসহ গ্রেফতারকৃত আরো ৫ জন দুর্বৃত্ত মলে এই গণ ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। এব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামি হিসেবে প্রেমিক শিমুলকেও গ্রেফতার করেছে।

শিমুল গোবিন্দগঞ্জের শিবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের পুত্র। সে বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। যা কিশোরী প্রেমিকার কাছে গোপন করে প্রেম করে আসছিল। ঘটনার দিন কিশোরীকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসে। কিন্তু আসল উদ্দেশ্য ছিল বিয়ে করা নয়, বরং সহযোগি দুর্বৃত্তদের দিয়ে মহিমাগঞ্জের দশম শ্রেণির স্কুল ছাত্রী ওই কিশোরীকে সকলে মিলে গণ ধর্ষণ করে।

এব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার আদালতে গ্রেফতারকৃত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাখালবুরুজন ইউনিয়নের কাজিপাড়া নাওডাংগা গ্রামের নীল মাহমুদের পুত্র এনামুল হক (৩০), আজিম উদ্দিনের পুত্র রেজাউল (৩২), ভোলা মিয়ার পুত্র ধলু (২৫), এজদুর রহমানের পুত্র সুমন মিয়া (২৩) ও সাহারুল কাজীর পুত্র সাদ্দাম ওরফে সুজন কাজী (২৬) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ধর্ষণের দোষ শিকার করলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে। এদিকে প্রেমিক শিমুল ও ধর্ষণের মূলপরিকল্পনাকারি সাদ্দাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের দশম শ্রেণির ছাত্রী তার প্রেমিকের সাথে রোববার রাত ১২টায় বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পথে ওই ৫ দুর্বৃত্তের খপ্পরে পড়ে। তারা প্রেমিককে মারপিট করে তার কাছ থেকে ওই ছাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে নাওডাঙ্গা গ্রামে ধর্ষক ধলুর বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। পরে ওই বাড়িতেই রাত ২টা পর্যন্ত ওই ৫ ধর্ষক ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

পরে তাদের খপ্পর থেকে মুক্তি পেয়ে স্কুল ছাত্রীটি তার প্রেমিকের সাথে গোবিন্দগঞ্জ থানায় এসে ধর্ষনের বিষয়টি অবহিত করে। অভিযোগ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গেই এসআই মামুনের নেতৃত্বে গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশের একটি টিম ওই ধর্ষিত ছাত্রীকে নিয়ে ধর্ষক ধলুর বাড়ি নাওডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য