দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আটক পাঁচ শ্রমিক নেতার মুক্তি, কাজে যোগদানসহ ঈদ বোনাসের দাবিতে খনি এলাকায় বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। তবে খনির আবাসিক গেটে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকায় সেখানে ভিড়তে পারেননি।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলামের নেতৃত্বে শতাধিক খনিশ্রমিক খনির আবাসিক গেটের পশ্চিম-উত্তর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

নূর ইসলাম বলেন, খনি কর্তৃপক্ষ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় খনিশ্রমিকদের নির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃত্বদানকারী পাঁচ শ্রমিকনেতাকে গত শনিবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয়েছে। সকল শ্রমিক করোনা পরীক্ষা করে কাজে যোগ দিতে চায়। কিন্তু তার আগে আটক শ্রমিকনেতাদের মুক্তি দিতে হবে, ঈদের বোনাস দিতে হবে। দ্রুত নেতাদের মুক্তি দেওয়া না হলে আগামীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

খনি সূত্রে জানা যায়, ১০৫ জন শ্রমিককে কাজে যোগদানের জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলেও আটক শ্রমিকনেতাদের বাঁধাদানের কারণে শ্রমিকরা পরীক্ষা করতে এবং কাজের জন্য ১৪ দিনের কোয়ানেন্টাইনে যেতে পারেননি।

পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, খনির নিরাপত্তা কর্মকর্তা সৈয়দ ইমাম হোসেন বাদি হয়ে শনিবার (২৫ জুলাই) ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ সংখ্যা ছাড়াই অজ্ঞাতনামা খনি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে গত থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার পাঁচ শ্রমিককে রবিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। খনি এলাকায় শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বক্তব্য নিতে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

উল্লেখ্য, সরকারি কাজে বাঁধাদান, রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টিসহ ভাঙচুরের অভিযোগে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাঁচজন শ্রমিককে গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, দপ্তর সম্পাদক এরশাদ আলী, জাতীয় শ্রমিক লীগ বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শাখার সহ-সভাপতি মাহাবুবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য