আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরশহরের অদূরে মহাসড়কে মাইক্রোবাস চাপায় ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ২ জন নিহত হয়েছেন।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহেশপুর এলাকায় এ মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসময় পুলিশকে দায়ী করে প্রায় আধাঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

নিহতরা হলেন, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আজমপুর গ্রামের ভ্যানচালক শাফি মিয়া (৩০) ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের জানিপুর গ্রামের সোহেল মিয়ার ৬ বছরের শিশু ছেলে নাহিদ। দূর্ঘটনায় নাহিদের মৃত্যু ঘটলেও অলৌকিক ভাবে বেঁচে গেছেন তার বৃদ্ধা দাদী মমতা বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে রোববার সকাল থেকেই সড়ক দূর্ঘটনাপ্রবণ মহেশপুর এলাকায় দায়িত্বপালন করছিলেন গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ। রংপুর থেকে মাইক্রোবাসটি বগুড়া অভিমুখে যাচ্ছিল।

উল্লেখিত স্থানে পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে থামাতে সিগন্যাল দেয়। একই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রিক্সাভানটি থামাতে বলার সাথে-সাথে ভ্যান চালককে লাঠি দিয়ে সজোরে আঘাত করে পুলিশ। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে রিক্সাভ্যান আর চলন্ত মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক ও ভ্যানে থাকা শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।

এদিকে; সৌভাগ্যক্রমে প্রাণে যাওয়া আহত দাদীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের আরএমও ডা. প্রশান্ত কুমার চৌধুরী জানান আহত বৃদ্ধা আপাততঃ শঙ্কামুক্ত।

সড়ক দুর্ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশকে দায়ী করে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। এসময় থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত সাপেক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস প্রদান করলে বিক্ষুব্ধরা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জিলানি বলেন মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দায়িত্বপালন কালে পুলিশের কোন গাফিলতি পরিলক্ষিত হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

থানা পুলিশ অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান মাসুদ দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ভ্যান চালকের মরদেহ এবং মাইক্রোবাসটি হাইওয়ে পুলিশ জেফাজতে রয়েছে বলে জানা যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য