সুস্থ হওয়ার পর করোনাভাইরাসের ‘অ্যান্টিবডি’ কতদিন সুরক্ষা দিতে পারে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

করোনাভাইরাস মহামারীর মাঝে কয়েকটা মাস কেটে গেল। তারপরও এই ভাইরাস এখনও ‘নভেল’ মানে নতুন।

শিশুরা কি এই ভাইরাস ছড়ায়? সংক্রমণের শিকার ব্যক্তি কতক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারেন? চিকিৎসা কী? ভবিষ্যতে কীভাবে বাঁচা যাবে আরও ভয়াবহ মহামারী থেকে?

এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর আজও জানা নেই।

এই ঘোলাটে পরিস্থিতির মাঝেই নিরুপায় হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হচ্ছে। হ্যাঁ, স্বাস্থ্যবিধি আছে, সামাজিক দূরত্বও হয়ত আছে। তবে সংক্রমণ থেকে বাঁচার নিশ্চয়তা কোথাও নেই।

সেই মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য কেনটাকি’র ‘সেনেটর’ র‌্যান্ড পল, যিনি একজন চিকিৎসকও, আক্রান্ত হয়েছিলেন করোনাভাইরাসে। সুস্থ হওয়ার পর জুলাই মাসে দাবি করেন, তিনিসহ আরও কয়েক লাখ মানুষ এখন করোনাভাইরাস থেকে ‘ইমিউন’ বা প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।

কারণ তারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন। তার দাবি জোরালো হলেও তার পেছনে বৈজ্ঞানিক যুক্তি, তথ্য উপাত্ত কতটুকু জোরালো সেটা যাচাই করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন এক প্রতিবেদনে সেই যুক্তিই তুলে ধরেছে, যার আলোকে জানানো হল বিস্তারিত।

প্রথমত, একবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া ব্যক্তি যে পুনরায় সংক্রমিত হবেন না তা এখনও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মহামারী বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সেলিন গান্ডার বলেন, “এখন পর্যন্ত ‘অ্যান্টিবডি টেস্ট’য়ের মাধ্যমে আমরা শুধু বলতে যে ওই ব্যক্তি ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন কি-না, ‘ইমিউনিটি’ নিয়ে কিছুই বলার সুযোগ নেই।”

আর যদি ‘ইমিউনিটি’ থাকেও, তার স্থায়িত্ব কতদিন সেটাও তো জানা নেই।

আবার এপ্রিলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, “কারও শরীরে করোনাভাইরাসের ‘অ্যান্টিবডি’ থাকলেই যে তার আর নিশ্চিত কোভিড-১৯ হবে না, বিষয়টি এখন পর্যন্ত কোনও গবেষণাতেই যাচাই করে দেখা হয়নি।

ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান’য়ের ‘এপিডেমিওলজি’ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অব্রি গর্ডন বলেন, “সেনেটর পল’য়ের ওই দাবির ক্ষেত্রে সমস্যা হল, আমরা নিশ্চিত নই। বিশ্ব জনগোষ্ঠীর একটা বড় অংশই আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই ‘অ্যান্টিবডি’ তৈরি হয়েছে। আমরাও আশাবাদী যে তারা পুনরায় আক্রান্ত হবেন না। তবে আবার সমস্যা একটাই, আমরা নিশ্চিত নই।”

এপ্রিলের শেষ দিকে ‘ইনফেকসাস ডিজিজ সোসাইটি অফ আমেরিকা’র মুখপাত্র ডা. মেরি হেইডেন বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পুনরায় সংক্রমণকে সম্ভব ধরে নেওয়া ছাড়া আমাদের উপায় নেই। আমরা জানি না রোগীর শরীরে তৈরি হওয়া ‘অ্যান্টিবডি’ সুরক্ষা দেয় কি-না? দিলেও তার কার্যকারিতা কতটুকু? তা কত সময় সুরক্ষা দেয়?”

অপরদিকে লন্ডনের কিংস কলেজের করা গবেষণায় জানা যায় করোনাভাইরাসের ‘ইমিউনিটি’ কয়েক সপ্তাহ পর দুর্বল হয়ে যায়। গবেষণার কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।

তবে স্পেন সরকারের করা গবেষণাতেও একই ধরনের ফল দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে অবস্থিত ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির রোগ-সংক্রমণ বিভাগের অধ্যাপক ডা. উইলিয়াম স্ক্যাফনার বলেন, “যেহেতু একবার আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া জৈবিক ‘অ্যান্টিবডি’র স্থায়িত্বকাল আমার জানি না, তাই আমাদের ধরে নিতে তাদেরও কোনো একসময় টিকার প্রয়োজন হবে। তবে সেটা সময়ই বলে দেবে।”

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল বলছে, “যারা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের এখন কোভিড-১৯ এর কোনো উপসর্গ নেই। জুন মাসে ৩৭ জন ‘অ্যাসিম্টোম্যাটিক’ বা আক্রান্ত তবে লক্ষণ নেই এমন রোগীকে নিয়ে করা গবেষণা এবং আর কিছু প্রমাণ ইঙ্গিত করে যে, যাদের কোনো উপসর্গ দেখা যায় না তাদের মাঝে দুর্বল হলেও ‘ইমিউন রেসপন্স’ চোখে পড়ে।”

ছবি: রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য