যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরটির পুলিশ।

শনিবারের এ ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ প্রতিবাদকে সিয়াটলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হওয়া বর্ণবাদবিরোধী সবচেয়ে বড় কর্মসূচি বলা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিকটবর্তী অরেগনের পোর্টল্যান্ড শহরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘাতের ঘটনা সিয়াটলের বর্ণবাদবিরোধীদের উসকে দিয়েছে বলে অনেকের ধারণা, তাই এদিন ওয়াশিংটন রাজ্যের এ শহরটিতে বেশ বড়সড় বিক্ষোভ হয়।

পুলিশ বলছে, শনিবার শেষ বিকালের দিকে কিছু লোক কিং কাউন্টির নির্মাণাধীন একটি কিশোর সংশোধনাগার ও আদালত ভবনের স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পর হাজারও বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও টুইটারে জানিয়েছে তারা।

“ইট, পাথর, মর্টার ও অন্যান্য বিস্ফোরকের আঘাতে ২১ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বেশিরভাগ আহত সদস্যই পরে কাজে ফিরেছেন। হাঁটুতে আঘাতপ্রাপ্ত একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন,” বলেছে সিয়াটল পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, স্থানীয় কর্মকর্তাদের সহায়তা করতে ও বিক্ষোভ প্রশমনে তিনি সিয়াটলে বিস্তৃত আকারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছেন।

“আমরা দেখেছি পোর্টল্যান্ডে কী হয়েছে, আমরাও অন্য শহরগুলোর মায়েদের সঙ্গেও সংহতি দেখাতে চাই,” বলেছেন নবগঠিত ওয়াল অব মামস সিয়াটলের সদস্য লর্না মুরে।

ওয়াল অব মামসের এ ধারণাটি মূলত পোর্টল্যান্ডের বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকেই নেওয়া। সেখানে মায়েরা হলুদ রঙের পোশাক পরে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঝখানে মানবপ্রাচীর হয়ে দাড়িয়ে থাকেন।

ট্রাম্প পোর্টল্যান্ডে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের যে কৌশল নিয়েছিলেন তা বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় নেতা ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের ক্রুদ্ধ করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বিক্ষোভ ঠেকাতে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসন বাড়াবাড়ি করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

শুক্রবার ওয়াশিংটনের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি ব্রায়ান মোরান এক বিবৃতিতে বলেছেন, কেন্দ্রীয় সম্পত্তি এবং স্থাপনাগুলোতে যে কাজ হয় তার নিরাপত্তা দিতে সিয়াটলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন শিকাগো, কানসাস সিটি ও নিউ মেক্সিকোর অ্যালবাকারকিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠিয়েছে; যদিও এসব শহরের মেয়ররা এতে আপত্তি জানিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য