আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আবারও মারাত্মক অবনতি হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

গাইবান্ধা পৌর এলাকার কিছু কিছু এলাকাসহ জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী কুপতলা, খোলাহাটি, ঘাগোয়া, গিদারি, মালিবাড়ি ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোতে বসতবাড়ি ও সড়কে পানি উঠতে শুরু করেছে। সেইসাথে গাইবান্ধা সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ি উপজেলায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছে এসব এলাকার মানুষ।

বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ দীর্ঘস্থায়ী এ বন্যায় কর্মহীন থাকায় চরম খাদ্যাভাবে পড়েছে। এছাড়া বন্যার পানিতে নিমজ্জিত কাঁচা বাড়িঘরগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং ভেঙ্গে যাচ্ছে। এছাড়া গবাদি পশুর খাদ্য সংকট, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিস্কাশন সংকটসহ নানা সমস্যায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়ন ও গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বন্যাকবলিত এলাকায় এ পর্যন্ত নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ৫৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৯৮ সে.মি., ঘাঘট নদীর বিপদসীমার ৭৬ সে.মি. এবং করতোয়ার পানি বিপদসীমার ৪১ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকাসহ ৬টি ইউনিয়নে পানি ওঠায় লোকজন বিপাকে পড়েছে। অনেক এলাকার রাস্তাঘাট, জমিগুলোর আঁখ, পাটসহ বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য