যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ড শহরে আটক হওয়া ১৮ বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন মার্কিন প্রসিকিউটররা। পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগসহ বেশ কিছু অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পোর্টলান্ডে বিশেষভাবে পাঠানো কেন্দ্রীয় পুলিশ এজেন্টদের হাতে সম্প্রতি গ্রেফতার হন এসব বিক্ষোভকারী। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণ-বৈষম্য ও পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রায় দুই মাস ধরে বিক্ষোভ চলছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোসহ দেশটির বড় বড় শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোতে ফেডারেল পুলিশ ও সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তার দৃষ্টিতে বিক্ষোভকারীরা ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘লুটেরা’! বিক্ষুব্ধরা দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ও অন্য অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তির মূর্তি ভাঙ্গতে থাকায় ট্রাম্প তাদেরকে দশ বছরের কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি পোর্টল্যান্ড শহরের বিক্ষোভ দমনের জন্য সেখানে ফেডারেল বাহিনী পাঠানোর আদেশ দেন।

ডেমোক্র্যাট ও সিভিল লিবার্টি গ্রপগুলো কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছত্রছায়ায় তা হচ্ছে।

অনলাইনে প্রকাশিত বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সাদা পোশাকের কর্মকর্তারা শক্তি প্রয়োগ করছেন এবং গাড়িতে করে গ্রেফতারকৃত বিক্ষোভকারীদেরকে নিয়ে যাচ্ছেন। ওই গাড়িগুলো কাদের সেটাও লেখা নেই। মানবাধিকার আইনজীবীরা মনে করছেন, গ্রেফতারের এ ধরনের কৌশলগুলো বিক্ষোভকারীদের মুক্তভাবে মত প্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন করে।

পোর্টল্যান্ডে বিক্ষোভকারীদের ওপর ধরপাকড় চালানোর অভিযোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সিয়াটলে কৌশলগত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে পোর্টল্যান্ডের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন পোর্টল্যান্ডের মেয়র ও ওয়াশিংটন স্টেটের গভর্নর। তবে সে আপত্তি উপেক্ষা করে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ওয়াশিংটনের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট-এর অ্যাটর্নি ব্রায়ান মোরান এক বিবৃতিতে বলেন, কেন্দ্রীয় স্থাপনা ও সেখানকার কার্যক্রমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য