আজিজুল ইসলাম বারী , লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ ৩ সন্তান ও স্বামীকে রেখে ৪২ বছর বয়সী দিপালী দেবী সিংহ’র সাথে ২২ বছর বয়সী রিকন মিয়ার মোবাইলে মিস কলের সুত্র ধরে পরিচয়। পরে প্রেমে পরিনয়। দীর্ঘ ৩ বছর ধরে মোবাইল কথা বলার পর বিয়ের সিদ্ধান্ত। প্রেমিক রিকন মিয়ার সাথে জুটি বাঁধতে বাড়ি থেকে বের হয়ে খুনের শিকার হলেন দিপালী দেবী সিংহ। এমন নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের পুর্ব বেজগ্রাম এলাকায়।

দিপালী দেবী সিংহ ওই এলাকার পরিমল দেব সিংহের স্ত্রী ও রিকন মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ উপজেলার জলশুকা দক্ষিন পাড়া গ্রামের হিরন মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানান, দিপালী দেবী সিংহ’র সাথে রিকন মিয়ার মোবাইল ফোনের মিস কল থেকে ৩ বছর আগে পরকীয়া প্রেমের সুত্রপাত। গত ৯ জুলাই রিকন মিয়াকে বিয়ে করতে সন্তান ও স্বামী ছেড়ে দিপালী দেবী সিংহ তার স্বামীর ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে দিপালী দেবী ওই এলাকার আফজাল হোসেনের পুত্র রমজান আলী ও ধনর উদ্দিনের পুত্র নজরুল ইসলামের শরণাপন্ন হন। রমজান আলী ও নজরুল ইসলাম দুই জনে দিপালী দেবীকে নিয়ে ওই দিন রাতে পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম হলদিবাড়ী এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র ওসমান আলীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ১৪ জুলাই রাতে ওসমান আলী ও ওই এলাকার মেছের আলীর পুত্র রবিউল ইসলাম দু’ জনে দিপালী দেবীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী জলঢাকার কথা বলে তিস্তা নদীর চরে নৌকা যোগে নিয়ে যায়। ওই দিন গভীর রাতে তারা দু’জনে টাকার লোভে দিপালী দেবী সিংহকে হত্যা করে বালু চরে পুতিয়ে রাখে। এ সময় দিপালী দেবী সিংহ’র ব্যাগে থাকা টাকা তারা ভাগাভাগি করে নেয়।

এ হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রমজান আলী, নজরুল ইসলাম ও ওসমান আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দিপালী দেবী সিংহ’র ভাসুর বিমল চন্দ্র দেব সিংহ বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

হাতীবান্ধা থানার ওসি ওমর ফারুক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি আটক ওই তিন জনেই স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি গত ১৯ জুলাই লালমনিরহাট সদর উপজেলায় তিস্তা নদীতে যে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই লাশ হলো দিপালী দেবী সিংহ বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য