দিনাজপুর সংবাদাতাঃ আর কয়দিন পরেই দেশে পালিত হবে মুসলামন সম্প্রদায়ের উৎসব ঈদুল আযাহা। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে কোরবানি পশু বিক্রি। তবে দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও মহামারী করোনার কারনে কোরবানি পশু বিক্রি ও দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হিলি সীমান্তবর্তী খামারীরা।

গেলো কয়েক বছর ধরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে গরু আসায় মুখ থুবরে পড়ে এখানকার খামারীরা। তবে গত দুই বছর থেকে প্রশাসনের কঠোর নজরদাড়ি ও সীমান্তের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে অবৈধভাবে গরু আসা বন্ধ থাকায় বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে গরুর খামার তৈরি করে আশার আলো দেখতে শুরু করে সীমান্তের খামারীরা।

এবার করোনার কারনে সেই আশার আলো নিভে যাবার দুশ্চিন্তায় আবারো হিলির ছোট-বড় খামারীরা। তারা এখন বিপাকে পড়েছেন কোরবানি পশু বিক্রি ও দাম নিয়ে। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টি ও করোনার কারনে হাট গুলোতে তেমন ক্রেতা সমাগম না থাকায় এসব কোরবানি পশু বিক্রি নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে কথা হয় কয়েকজন খামারীর সাথে তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু আসা বন্ধ থাকায় এনজিও থেকে লোন নিয়ে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বেশ কিছু গরু লালন-পালন করেছি। তবে করোনার কারনে এখন পর্যন্ত তেমন কোন ক্রেতা না থাকায় এসব গরু নিয়ে আমরা বিপাকে আছি। যদি বিক্রি না হয় তাহলে একদিকে লোন পরিশোধের চাপ অন্যদিকে ক্ষতি গুনতে হবে।

তারা আরও জানান, গো-খাদ্যের দাম বেশি। বেশি দামে খাবার কিনে গরু লালন-পালন করে যদি কম দামে বিক্রি করতে হয় তাহলে আমাদেরকে পথে বসতে হবে।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ জানান, এবার কোরবানি ঈদে হিলিতে পশুর চাহিদা রয়েছে ৬ হাজার ৫শ। তার বিপরীতে এই উপজেলায় ৯ হাজারের উপর কোরবানির পশু প্রস্তুত আছে।খামারীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং তা অব্যহৃত আছে।

তিনি আরও জানান, খামারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় এবং দাম ভালো পায় সেদিকে লক্ষ রেখে আমরা অনলাইন কোরবানি পশুর হাট চালু করেছি। যেখানে ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনই সুবিধা পাবেন। অনলাইনে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১টি কোরবানি পশু বিক্রি হয়েছে এই অনলাইন হাট থেকে। আশা করছি এটি সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করলে খামারীরা লাভবান হবে।

জয়পুরহাট ২০-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল ফেরদৌস হাসান টিটু জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ভারত থেকে গরু পাচার করলেও বর্তমানে অবৈধভাবে গরু পাচারের কোন সুযোগ নেই। কারন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া যে এলাকা গুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই সেসব এলাকায় বিজিবির টহল জোরদাড় করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গোয়েন্দা নজরদাড়ি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে শুধু গরু নয় অন্য কোন পণ্য চোরাই পথে সীমান্ত দিয়ে আসার সুযোগ নেই।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য