দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের খানসামায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ করোনা জয় করে আইসোলেশন থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন আরো ৬ করোনা রোগী। এর আগে ৩৪ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্ত ৫৪ জন রোগীর মধ্যে এযাবত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ৪০ জন ও মারা গেছেন ১ জন। এছাড়াও বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছে ১৩ জন করোনা রোগী।

করোনা থেকে সুস্থ হওয়া রোগীরা হলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কায়েমপুর গ্রামের আলহাজ্ব মহিউদ্দীন (৭৪), কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্মকর্তা জুগীরঘোপা গ্রামের এ.কে. আজাদ (৩২), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সের স্বামী সিদ্দিকুর রহমান (৩০), গোবিন্দপুর গ্রামের জিকরুল ইসলাম (৩০), খামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ জগদীশ রায়ের স্ত্রী নিধা রায় (১৮) ও করোনায় মৃত জোগেশ রায়ের পুত্রবধূ পূর্ব হাসিমপুর গ্রামের সনচিতা রায়। তারা সকলেই প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম আইসোলেশনে ছিলেন।

২০ জুলাই সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপহার ও সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল, করোনা রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকেল টিমের টিমলিডার ডাঃ ফারুক আহমেদ রিজওয়ান, পিআইও মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও আংগারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমেদ শাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, ভেড়ভেড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজ সরকার প্রমুখ।

করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলহাজ্ব মহিউদ্দীন বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকের বিধিবিধান মেনে চলেছি। প্রতিনিয়তই ইউএনও স্যার, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউপি চেয়ারম্যান খোঁজ-খবর নিয়েছেন। অনেক উপজেলায় বন্ধু-বান্ধব ও আত্বীয়দের মাধ্যমে খবর নিয়েছি কোথাও আমাদের ইউএনও স্যারের মত নিজে করোনা রোগীর বাড়িতে যেয়ে খোঁজ খবর নেয় না। আমার সুস্থতার জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত ও ইউএনও স্যারের সাহস ও উৎসাহ কাজে লাগিয়েছে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক কর্মকর্তা এ.কে. আজাদ বলেন, খানসামা উপজেলার মত আর কোথাও প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা রোগীদের খবর নেয় না। ইউএনও, ওসি ও চিকিৎসকরা আইসোলেশনে এসে সর্বদাই সাহস দিয়েছেন। তারা সকলকে করোনায় আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, করোনা রোগীদের উৎসাহ ও সাহস যোগাতে ফলমূল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপহার নিয়ে পুলিশ, চিকিৎসক, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গ্রামপুলিশ, আনসারদের সাথে করে তাদের বাড়িতে যেয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছি। যেন তাদের মনোবল ভাল থাকে। এছাড়াও প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে খোঁজ-খবর নিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রম আগামীতে অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য