দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুর সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামের ঘনবসতী এলাকায় পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই অটো রাইস মিল তৈরি করায় পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে এবং আবাসিক এলাকায় ইন্ডাষ্ট্রিজ তৈরি না করার দাবিতে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসি ২০ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টায় পুলহাট রুপম মোড় এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের রূপন মোড়ে ক্ষতিগ্রস্থ কয়েকশত পরিবার পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে প্রদর্শিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধন করে। এসময় ফেস্টুনে “আবাসিক এলাকায় ইন্ডাষ্ট্রিজ চাইনা”, “গ্রামে অবৈধ স্থাপনা বন্ধ কর”, “পরিবেশ সুরক্ষা চাই” ইত্যাদি লেখা ফেস্টুন প্রদর্শিত হয়।

এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় পরিবেশ সুরক্ষা কমিটির মূখপাত্র মোসাদ্দেক হোসেন। মোসাদ্দেক জানান, এভাবে একের পর এক চালকল তৈরি হতে হতে আজ বাড়ির সীমানা ঘেষে তৈরি হতে শুরু করেছে। এলাকাটিতে ছাই, ধুলোবালির কারণে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী লিচু উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। নতুন করে আবাসিক এলাকায় চালকল বসলে বসবাসের অযোগ্যতে পরিণত হবে এলাকাটি। এসময় মানববন্ধনে একাত্মতা ঘোষণা করে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবিএম কলেজ।

কেবিএম কলেজের অধ্যক্ষ জানান, আবাসিক এলাকায় চালকল তৈরি হওয়ায় কলেজে ক্লাশের পরিবেশ বিঘিœত হচ্ছে। নানা সময় শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ করে। ক্যাম্পাসে ছাই কণায় একাকার হয়ে থাকে। আমরা প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছি কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। এ আন্দোলনের সঙ্গে আমরা একাত্মতা ঘোষণা করছি।

স্থানীয় গ্রামবাসী আব্দুস সাত্তার জানান, নতুন করে চালকল তৈরি হলে আশাপাশে বসবাস করা কয়েক হাজার মানুষের বসবাস অনুপোযগী হয়ে পড়বে। পরিবেশের পাশাপাশি ক্ষতি হবে মানবদেহে। বায়ুদূষণের কারণে শ্বাষ কষ্ট জনিত রোগের আশঙ্কা করছি আমরা।

ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত আবেদন করা হলে জেলা প্রশাসক পরিবেশ অধিদপ্তরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরিবেশ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক তদন্তের যে প্রতিবেদন জমাদেন সেখানে উল্লেখ করেন অটো রাইচ মিলটি তৈরির পূর্বে কোন পরিবেশগত ছাড়পত্র নেয়া হয়নি।

রাইচ মিলটি পরিচালনা করা হলে ছাই, ধুলিকণা , কালোধোঁয়ায় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ ও জীবনযাপনে অসুবিধার সৃষ্টি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এরই পরিপেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল আলম ১৮ সেপ্টম্বর ২০১৯ কার্যক্রমটি স্থগিতাদেশ দিয়ে একটি চিঠি পাঠান। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে মর্মে চিঠিতে জানানো হয়। লকডাউন চলাকালিন সময়ে চালকলটির কাজ সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী সমস্যার কথা জানিয়ে পুনঃরায় জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে। প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি দিয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানান।

অটো রাইচ মিলটির মালিক সদরের মাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ অহিদুল ইসলাম বলেন, আমার এই নির্মাণাধীন চালকলটি অধুনিকায়ন এই মিল দ্বারা কোন প্রকার বায়ু এবং পানি দূষন হবেনা। তিনি আরও বলেন এই মিলের সাথে পানির কোন সম্পর্কই তাই পানি দুষনের কোন প্রশ্নই উঠতে পারেনা। আমার নির্মাণাধীন মিলটির পশ্চিম ও ধক্ষিণে ৫টি মিল রয়েছে উক্ত মিল গুলো দ্বারা প্রতিনিয়ত বায়ু ও পানি দুষন হচ্ছে সে বিষয় কেউ কথা বলছেনা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য