আজিজুল ইসলাম বারী , লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে হাটে পশু বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার খামারিরা।

কোরবানির ঈদ যতই এগিয়ে আসছে, ততই তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে। করোনা দুর্যোগ ও বন্যায় লাভের আশা তো দূরের কথা, গরু-ছাগল বিক্রি করে খরচের টাকা তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, গ্রামের হতদরিদ্র পরিবার গুলো প্রতি বছর কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে দু-একটা গরু মোটাতাজা লালন-পালন করে বিক্রি করে বেশ লাভের আশার আলো গুনতো। ক্রেতা ও দাম না থাকায় তারা বেশি সংশয় ভুগছেন।

বর্তমানে বাজার গুলোতে ক্রেতা ও দাম না থাকার কারনে বেশ ক্ষতির সন্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে খামারিদের আরও বেশি লোকসান হবে। তারা এক একটি গরু মোটাতাজা করতে দৈন্দিন গড়ে ১ থেকে দেড়শত টাকা খরচ করে। করোনাকালিন দুর্যোগে গো-খাদ্যের দাম দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পালনে খামারিদের খরচ বেড়েছে দ্বিগুন। অপরদিকে করোনা দুর্যোগে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের আনাগোনাও কমেছে। ফলে গরুর নায্য মুল্যে নিয়েও শঙ্কিত খামার গরুর মালিকরা।

ঈদুল আযাহার কেন্দ্র করে দেশের বড় বড় পশুর হাটের বেপারীরা এ অঞ্চলের খামারিরদের কাছ থেকে বড় বড় গরু ক্রয় করে নিয়ে যান। কিন্তু চলমান দুর্যোগের কারনে এবার বাইরের বেপারীদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। এ আশঙ্কায় দাম না থাকার কারনে খামারিরা গরুর খাবার কমে দিয়েছেন।

এদিকে উপজেলার টুম্পা ট্রেডিং এলাকার আই ফার্মা লিঃ ঢাকা এর একটি বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠান অফিস আছে। সেই অফিসের মাধ্যমে এলাকায় যাদের জমি আছে অর্থ নেই সেই সমস্ত লোকদেরকে খামার তৈরি করে জেলা ও উপজেলায় ৬৯টি খামারে আড়াই শতাধিক গরু ক্রয় করে দিয়েছেন। আবার মোটাতাজা করতে গরুসহ অগ্রিম অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন। যাহা গরুর লাভের অর্ধেক ও খাবার বাবদ অর্থ লাভের সাথে ফেরত দিতে হবে এই চুক্তিনামায় এমনি একজন উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী (পাগলার চরা) সীমান্তের ঘেঁষা আশরাফুল ইসলাম নামের একজন সসফল খামারি জানান, গত বছর নিজে ৩০ টি গরু ক্রয়সহ মোটাতাজা করতে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার মত খরচ হয়েছে।

বছর শেষে কোরবানীর ঈদে বিক্রি করে ২ লক্ষ টাকার মত লাভ হয়। সেই লাভের আশায় এ বছর ঈদকে সামনে রেখে উক্ত বাণিজ্যক প্রতিষ্ঠান থেকে ৬০ টি গরু মোটাতাজা করতে বর্গা নেই এবং গরুর খাবার বাবদ অগ্রিম গরু প্রতি ৫ হাজার করে ২ লক্ষ টাকা প্রদান করে। আমি সেই টাকা ও লাভের অংশ দিয়ে কাজ শুরু করি এখন দেখা যায় গরুর পিছনে প্রতি দিন যে শ্রমিকের মজুরি ও খাবারের যে দাম অর্থ ব্যায় করা হয়েছে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিক্রি করলে বিরাট একটা লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

একই প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ টি গরু বর্গা নেওয়া কমলাবাড়ী ইউনিয়নের বড় কমলাবাড়ী এলাকার খামারি ও পল্লি চিকিৎসক সাখানেওয়াজ জানান, কিছুদিন আগে দেশব্যাপী বয়ে যাওয়া লাম্বি স্কিন (ডিজিজ) ও করোনার কারনে বাহির থেকে ক্রেতা না আসার কারনে দাম নেই। গরুর পিছনে যে অর্থ ব্যায় করা হয়েছে তাতে লোকসানের আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাধারনত কোরবানী ঈদের সময়টাতে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রাতাদের ভিড় থাকত কিন্তু করোনা কারনে পশুর হাটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার এই হতাশা কাটানের জন্য করোনা প্রাদুর্ভাব পোহাতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে অনলাইনে পেজ খুলেছে।

এতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া যুগিয়েছে। ফেসবুকে অনলাইনে নিরাপদে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ক্রয় বিক্রয়ের মাধ্যমে খামারিরা যাতে নায্য দাম পায় তাদের সুবিধার্থে এই পেজ খুলা হয়েছে। এছাড়াও অফিসের লোকজন প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খুজে গরুর মালিকদের সাথে কথা বলে দাম ও ছবি তুলে ফেসবুকে দিচ্ছে।

আদিতমারী উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘জেলায় এবার প্রচুর গরু পালন করেছেন খামারিরা। ঈদ এগিয়ে আসায় তাঁদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তাঁরা। ’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য