সৈয়দপুর উপজেলার ১নং কামারপুকুর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড কিসামত কামারপুকুর। এখানে বাস করেন মমেনা বেগম্। চার সন্তান রেখে ৬ বছর পুর্বে তার স্বামী সিবাইজুল ইসলাম মারা যান। বড় ছেলে মোহাইমেনুল হক, বয়স ১৫ বছর। সংসারের অভাবের তাড়নায় লেখাপড়া শিখতে পারেনি তেমন একটা। মাকে সহযোগিতা করতে সে রাজমিস্তীর যোগানির কাজ করে। সারাদিন কাজ করে যা পায় তা মায়ের হাতে এনে তুলে দেয়। নিজে লেখাপড়া না শিখলেও তার উপার্জনের অর্থ দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ছোট ভাই মেহেদী হাসান সপ্তম শ্রেণীতে ও আব্দুল্লাহ প্রথম শ্রেণীতে পড়ছে। অপরপাশে ছোট বোন সুবর্ণাও পড়ছে সপ্তম শ্রেণীতে। মাথা গোজার ঠাই বলতে ছিল একটি চালা ঘর। সেটিও মেরামত করতে না পাড়ায় চাল দিয়ে পানি পড়তো বর্ষাকালে। রাতে ঘুম আসতো না চোখে। আকাশে মেঘ ডাকলে তারা আল্লাহ আল্লাহ করতো যাতে পানি না আসে। ঘরের যেদিকে পানি পড়তো সেদিকে পাতিল বসে দিত মা মমেনা বেগম। কোন একদিন তাদের জীবনে এলো খুশির সংবাদ। খুশিতে আত্মহারা ওই পরিবার। হযতো এবার শান্তিতে থাকার জায়গা জুটবে তাদের কপালে। এ স্বপ্নে বিভোর মমেনার পরিবার। আর সেই স্বপ্ন অবশেষে পূরন হলো তার। দুর্যোগ সহনীয় ঘর পাওয়া কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল সরকার পাড়ার রশিদুল ইসলাম, নিজবাড়ি সরকার পাড়ার সোলেমান আলি,আইসঢাল হাজি পাড়ার কাছুয়ানি বেগম, ব্রহ্মোত্তর এলাকার মাহমুদা বেগম।
কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের হুগলিপাড়ার মুক্তা বেগম, পাকাধরার স্বাধীন, তারা মিয়া, তিনপাইয়ের ছাইদুল ইসলাম, বাসতলি পাড়ার মিন্টু সরকার, কিসামত ডাঙ্গি পাল পাড়ার সনজিব চন্দ্র পাল, আরাজি কিসামত চওড়ার অফিদুল ইসলাম।
বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের লক্ষনপুর চড়কপাড়ার পরেশ চন্দ্র রায়, বালাপাড়ার নজরুল ইসলাম,এরশাদুল হক, খেলা রাম রায়, এহিয়া বেগম, বাড়াইশাল পাড়ার অনীল চন্দ্র রায়, চড়ক পাড়ার জাবেদুল ইসলাম।
বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের সোনাখুলি মাঝা পাড়ার আজিনুর রহমান, তেলি পাড়ার মোমিন আলি, জেলে পাড়ার অনিল চন্দ্র দাস, ডাঙ্গা পাড়ার রফিকুল ইসলাম, ধুলাতি পাড়ার অহেদুল ইসলাম, তহশিল দার পাড়ার জাহাঙ্গীর আলম, শরৎ পাড়ার ফেন্সি বেগম, নলছা পাড়ার মামুনুর রশিদ, বালা পাড়ার রবিউল ইসলাম, নলছা পাড়ার আনোয়ার হোসেন।
খাতামধুপুর ইউনিয়নের খালিশা ধুলিয়ার আমিনুর ইসলাম, ডাঙ্গাপাড়ার মেরেজা বেগম, রথের পুকুরের ছকমল হোসেন, বাসুয়া পাড়ার ওহাদ আলি, খালিশা বেলপুকুরের বাংরু, ভিকারী পাড়ার হাফিজার রহমান ও সরকার পাড়ার আসাদুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দ গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার টি আর কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় আধুনিক বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এসকল ঘর পেয়ে আমরা খুবই খুশি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই সেই সাথে তাঁর দীর্ঘায়ু কামনা করি।
সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু হাসনাত সরকার জানান, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার /টি আর কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ সহনীয় আধুনিক বাসগৃহ নির্মাণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর উপজেলায় ৩৬ পরিবারকে গৃহ বরাদ্দ দেয়া হয়েছ্।ে প্রতিটি বাসগৃহের প্রাক্কলিত মূল্য ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮শ ৬০ টাকা। প্রতিবন্ধী, কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, গৃহপরিচারিকা, গৃহকর্মী, রিকশা ভ্যানচালকসহ বিভিন্ন অস্বচ্ছল পরিবার পেয়েছে এ দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ। এর পুর্বে প্রথম পর্যায়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ৩০ পরিবারকে দেয়া হয় ঘর। যার প্রতিটি ঘরের প্রাক্কলিত মুল্য ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ ৬০ টাকা।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সৈয়দপুর উপজেলায় ৩৬টি বাসগৃহ নির্মাণ শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি পেয়েছেন অসহায় মানুষজন। তিনি বলেন প্রতিটি ঘরে দু’টি কক্ষ, দু’টি বারান্দা, একটি রান্না ঘর, একটি করিডোরসহ রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। এ ঘরগুলো তিনি অসহায় মানুষজনকে বুঝিয়ে দিয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছেন তেমনি ওই মানুষগুলোও ঘর পেয়ে অত্যন্ত খুশী হয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য