আগ্রাসী যেকোনো বাহিনীকে মোকাবেলার প্রস্তুতিস্বরূপ ভূমিতে, সমুদ্রে ও আকাশে যুদ্ধমহড়া চালিয়েছে তাইওয়ান।

বৃহস্পতিবারের এ মহড়ার মাধ্যমে তাইওয়ান নিজেদের ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় ‘দৃঢ়সঙ্কল্পের প্রমাণ দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন।

তাইওয়ানকে চীন নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ বলেই বিবেচনা করে আসছে; স্বশাসিত দ্বীপটি স্বাধীন হওয়ার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগেরও হুমকি দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবারের মহড়ায় তাইওয়ান এফ-১৬ ও নিজেদের বানানো চিং-কুয়ো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ছোট ছোট ঝোপঝাড়ের মধ্যে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা তাদের ট্যাঙ্কগুলোর ছোড়া গোলা সমুদ্রতীরের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

তাইওয়ানের কেন্দ্রস্থ তাইচুংয়ের কাছের উপকূলীয় অঞ্চলে হওয়া এ মহড়ায় প্রায় ৮ হাজার সৈন্য অংশ নিয়েছে।

‘হান কুয়াং’ নামের এ মহড়াটি তাইওয়ানের প্রধান বার্ষিক মহড়া।

চলতি বছর চীন স্বশাসিত এ দ্বীপটির আশপাশে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। বেইজিংয়ের বোমারু বিমানগুলোকে প্রায়ই দ্বীপটির কাছাকাছি উড়তে দেখা গেছে।

“হান কুয়াং মহড়া হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠান, যার মাধ্যমে যুদ্ধ সক্ষমতায় অগ্রগতির মূল্যায়ন করা যায়। তাছাড়া এটি দেশের ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় আমাদের দৃঢ়সঙ্কল্প ও চেষ্টাকেও বিশ্বের কাছে তুলে ধরে,” সৈন্যদের উদ্দেশ্যে এমনটাই বলেছেন সাই।

জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়া সাই চীনকে মোকাবেলার লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত বছর তাইওয়ান প্রতিরক্ষা খাতে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দও দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা যুদ্ধ সরঞ্জামে তাইওয়ানের সেনাবাহিনী সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত হলেও চীনের বিপুল সংখ্যক সেনা ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের তুলনায় স্বশাসিত এ দ্বীপদেশটির রণপ্রস্তুতি ‘একেবারেই নগণ্য’।

বেইজিং তার সশস্ত্র বাহিনীতে স্টিলথ যুদ্ধবিমান ও নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অত্যাধুনিক নানান যুদ্ধাস্ত্রও সংযুক্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে যেসব বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন বাড়ছে তাইওয়ান তার মধ্যে অন্যতম। বেইজিংকে প্রায়ই স্বশাসিত দ্বীপটির প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থনের নিন্দা জানাতে দেখা গেছে।

তাইওয়ানের উপর সামরিক, কূটনৈতিক নানা ধরনের চাপ বাড়ানোর পেছনে সাইকে অভিযুক্ত করছে চীন। স্বশাসিত দ্বীপটির প্রেসিডেন্ট ‘আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার’ দিকে অগ্রসর হচ্ছেন বলেও মনে করছে তারা।

অন্যদিকে সাই বলছেন, তাইওয়ান এখনি স্বাধীন দেশ, যার আনুষ্ঠানিক নাম ‘রিপাবলিক অব চায়না’।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য