করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে শরৎকালীন সেশনে কেবল অনলাইনে ক্লাস করবে এমন বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

বিবিসি জানিয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্য সরকারের আইনি পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন নীতিমালা ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা সিদ্ধান্তটি থেকে সরে এল।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) ও হার্ভার্ডের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নতুন ওই নীতমালার বিরুদ্ধে মামলা করেছিল।

মঙ্গলবার ম্যাসাচুসেটসের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক অ্যালিসন বারাস জানান, সরকারের ওই নীতিমালা পরিবর্তনের বিষয়ে সব পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছেছে।

সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সংস্থা পরিচালিত স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে মার্চের নির্দেশনাই পুনর্বহাল করতে যাচ্ছে বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আগের নীতিমালায় মহামারীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনে তাদের সবগুলো কোর্স অনলাইনে করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। অনলাইনে ক্লাস করলেও তারা ‘শিক্ষার্থী ভিসায়’ বৈধভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে, বলা হয়েছিল মার্চের নির্দেশনায়।

প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যায়। তাদের বেশিরভাগকেই সম্পূর্ণ টিউশন ফি দিতে হয়। এই অর্থ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের অন্যতম উৎস।

সম্প্রতি হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ এক ঘোষণায় করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে নতুন শিক্ষাবর্ষে সকল কোর্সের নির্দেশনা অনলাইনে দেওয়া হবে বলে জানায়।

এ নির্দেশনা কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, যারা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছিল তারা।

হার্ভার্ডের পর এমআইটিসহ আরও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কথা জানিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এমন ঘোষণার মধ্যে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে আইসিই-র নতুন নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলে দেয়।

৬ জুলাইয়ের নির্দেশনায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যদি তাদের সমস্ত ক্লাস অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে দেশটিতে অবস্থান করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।

সশরীরে উপস্থিত থাকার দরকার আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন কোনো কোর্সে ভর্তি না থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। নতুন এ নিয়ম না মানলে শিক্ষার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানো হবে বলেও সতর্ক করে সংস্থাটি।

অথচ আইসিই বসন্ত ও গ্রীষ্মকালীন সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের সমস্ত ক্লাস অনলাইনে করার সুযোগ দিয়েছিল।

নির্দেশনা জারির দুইদিনের মাথায় হার্ভার্ড ও এমআইটি এর বিরুদ্ধে আদালতে যায়। পরে আরও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাতে যুক্ত হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেটসসহ ১৮টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলও মার্কিন সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কয়েক মাসের বিপর্যয়কর পরিস্থিতির পর যুক্তরাষ্ট্র যে ফের স্বাভাবিক হচ্ছে তা দেখানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শরৎকালীন সেশন থেকে সব স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন; তারই ধারাবাহিকতায় আইসিই-র ৬ জুলাইয়ের ওই নির্দেশনা।

নির্দেশনাটি মূলত এফ-১ ও এম-১ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেই প্রয়োজ্য হতো বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘এফ’ ক্যাটাগরির তিন লাখ ৮৮ হাজার ৮৩৯টি এবং ‘এম’ ক্যাটাগরির ৯ হাজার ৫১৮টি ভিসা দিয়েছিল বলে আইসিই-র দেয়া তথ্যে জানা গেছে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার, জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য