মোঃ ইউসুফ আলী, আটোয়ারী পঞ্চগড় থেকেঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে লাম্পি ডিজিজে হাজার হাজার গরু আক্রান্ত। গরু পালনকারীরা হতাশায় ভুগছে। উপজেলার ৬ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি গ্রামে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

অনেকের আক্রান্ত গরু উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্যও হয়েছে। বর্তমানে উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগে গরুর মালিকরা আক্রান্ত গরু নিয়ে চিকিৎসার জন্য ছুটে আসছেন। অনেক গরুর মালিক প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ও ভ্যাটেনারী সার্জনের কাছে পরামর্শের জন্য ছুটে আসছেন। এব্যাপারে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইদানিং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরু মহিষের শরীরে মহামারী আকারে লাম্পি স্কিন ডিজিজ শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু গরু মারাও গেছে। আটোয়ারীতেও ইদানিং এ রোগের আবির্ভাব ঘটেছে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ রোগ প্রতিরোধে নিরলস কাজ করছে। এ রোগ আল্লাহর রহমতে চিকিৎসায় ভাল হয়। হতাশা হওয়ার কোন কারণ নেই।

লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি সংক্রামক চর্মরোগ যা শুধুমাত্র গরু মহিষের হয়। এই রোগ গরু মহিষের চামড়ায় চাকা চাকা ঘা দেখা যাওয়ায় সহজেই চেনা যায়।এ রোগে মানুষ আক্রান্ত হয় না।

তিনি বলেন, কোন গরু আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়, ব্যাথা সহ খাবার অরুচি হয়, পা, গলকম্বল ফুলে যায়, মুখ থেকে লালা ঝরবে এবং গরু খুড়িয়ে হাঁটবে, দুর্বল ও নিস্তেজ হবে।

মশা, মাছির মাধ্যমে এ রোগটি দ্রুত এক প্রণি হতে অন্য প্রাণিতে ছড়ায়। আক্রান্ত গরুর লালা, দুধ, চোখ বা নাকের পানির মাধ্যমে ছড়ায়। তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ এ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ দপ্তরের প্রেরিত প্রচার পত্র বিতরণ সহ গরুর মালিকদের পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের ভ্যাটেনারী সার্জন ডা. শামীমা বেগম জানান, আটোয়ারীতে লাম্পি স্কিন ডিজিজ আক্রান্ত এ পর্যন্ত ( ১৪ জুলাই২০২০) ১১৪ টি গরুর চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। চিকিৎসায় আক্রান্ত গরু সুস্থ্য হয়েছে। এখনো প্রতিনিয়ত আক্রান্ত গরু চিকিৎসার জন্য আসছে। তবে এ রোগে আক্রান্ত হলে হতাশ না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নিলে গরু সুস্থ হবে ইনশাল্লাহ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য