আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গাইবান্ধা পৌরসভার বিশেষ বিশেষ কার্যক্রমের পাশাপাশি পৌরবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন মেয়র এ্যাড. শাহ্ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন। বাসা-বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন জায়গার ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করে ফেলার জন্য পৌরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

১৪ জুলাই (মঙ্গলবার) গাইবান্ধা পৌরসভার মশক নিধন ও জীবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে মেয়র এ আহ্বান জানান।

মেয়র বলেন, পরিষ্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র। তাই বাসাবাড়ির আশপাশে ডাবের খোসায়, ফুলের টবে, ছাদে, ফ্রিজের নিচের ট্রেতে যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনের জন্য ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ফগার মেশিনের পাশাপাশি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে স্প্রে কার্যক্রমর শুরু করা হয়েছে। পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরবাসিকে সুরক্ষা দিতে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রম একই সঙ্গে করোনাভাইরাস থেকেও আমাদের রক্ষা করবে।

মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের দাস বেকারির মোড় থেকে মশক নিধন ও জীবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র এ্যাড. শাহ মাসুদ জাহাঙ্গীর কবীর মিলন। এসময় অন্যদের মধ্যে শহরের বিশিষ্টজনরাসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ি মশক নিধন ও জীবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লায় পরিচালিত হবে।

মেয়র মিলন বলেন, এখনই এডিস মশা বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত সময়। ভারী বর্ষণ কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ির আশপাশ, ফুলের টব, আবর্জনা ফেলার পাত্র, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, ব্যাটারি শেল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেট এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পেতে পারে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বর্ষাকালে কোনো পাত্রেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। তার ওপর বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে তাও পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। জমে থাকা পানি ছাড়া এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও বেশি তৎপর হয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য