ভারতে প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে কেবল শুক্রবার থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টাতেই শনাক্ত হয়েছে ২৭ হাজারের বেশি রোগী।

একদিনে ৫১৯ জনের মৃত্যু নিয়ে দেশটিতে নতুন করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২২ হাজার ১২৩ জনে দাঁড়াল বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

অর্থনীতি সচলে লকডাউন শিথিলের পর থেকে ভারতে প্রায় প্রতিদিনই শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা আগের দিনের রেকর্ড টপকাচ্ছে।

বৃহস্পতিবারে আগে প্রতিদিন ২৫ হাজারের কাছাকাছি রোগী মিললেও শুক্রবার সাড়ে ২৬ হাজারের মতো রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছিল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আর শনিবার সকালে কর্মকর্তারা সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ১১৪ জনের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানান।

দেশটিতে এ নিয়ে সরকারি হিসাবে কোভিড-১৯ রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়াল ৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ জনে।

শনাক্ত রোগী আর মৃত্যু সংখ্যায় ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে এখনও সবার উপরে মহারাষ্ট্র। পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যে দুই লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষের দেহে নতুন করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে; মৃত্যু পৌঁছেছে ১০ হাজারের কাছাকাছি।

গুজরাটে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২ হাজার। তামিল নাডুও একই মাইলফলকের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

তামিল নাডু ও দিল্লিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশেও সংক্রমণ হু হু করে বাড়ছে।

পশ্চিমবঙ্গে টানা দুদিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৯৮ জনের দেহে প্রাণঘাতী ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে। রাজ্যটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১০৯ জনে।

নতুন ২৭ জনের মৃত্যু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কোভিড-১৯ এ মৃত্যুও ৮৮০তে পৌঁছেছে।

সংক্রমণের হার ও মৃত্যু দুশ্চিন্তা বাড়ালেও ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিসংখ্যানও অন্য অনেক দেশের তুলনায় ‘বেশ স্বস্তিদায়ক’।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর ৬২ শতাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ হাজার ৮৭৩ জন। সব মিলিয়ে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৩৮৫ জন ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত হলেন বলে জানিয়েছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য