দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হওয়া গোল আলুর দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। উপজেলার কোনো কোনো হাটবাজারে গোল আলুর কেজি ৩৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যেমে মাসের ব্যবধানে ৩০ শতাংশের ওপর এবং বছরের ব্যবধানে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে গোল আলুর দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গোল আলু এমন একটি পণ্য যা সবজী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি সব ধরণের মাছ,মাংস ও সবজি রান্নার ক্ষেত্রেও গোল আলু ব্যবহার হয়। ফলে সারা বছর গোল আলুর চাহিদা থাকে। কিন্তু বছরব্যাপী চাষ হয় না। তারা বলছেন,গোল আলু এখন আর চাষিদের কাছে নেই। সব বড় বড় ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের কাছে চলে গেছে।

এসব ব্যবসায়ী ও মজুদতদার ওপরই এখন গোল আলুর দাম নির্ভর করছে। তারা চাইলেই বাজারে সংকট তৈরি করতে পারেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন,বাজারে,এখন আলুর যে পরিমাণ চাহিদা আছে,সরবরাহ তার তুলনায় কম। এ কারণে দাম বাড়ছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বীরগঞ্জ পৌরসভার দৈনিক বাজার,হাটখোলা,বলাকা মোড় ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়,বাজার ও মানভেদে গোল আলুর কেজি ৩০ থেকে ৩৭ টাকা বিক্রি হচ্ছে। যায় দুদিন আগেও গোল আলুর কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে ছিল। আর রোজার ঈদের আগে ১৮ থেকে ২২ টাকা কেজি বিক্রি হয় গোল আলু। মানভেদে দামের পার্থক্য থাকার পাশাপাশি একই মানের গোল আলু বাজারভেদে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

যে গোল আলু দৈনিক বাজারে ৩২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, তা বলাকা মোড় বাজারে ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হতে দেখা যায়। কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৩৭ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। একই চিত্র দেখা যায় হাটখোলায়। গতবছরের একই সময়ে প্রতি কেজি গোল আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা বিক্রি হয় বলে জানায় ক্রেতারা।

এবছর গোল আলুর দাম কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা বেশি। বীরগঞ্জ দৈনিক বাজারের আলু ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন,’হুট করে আলুর দাম বেড়ে গেছে। গতকাল দুই বস্তা আলু এনেছি। এ আলুর দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেশি পড়েছে। আগের আনা আলু পরশুদিন ২৭ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। আড়ত থেকে বেশি দামে কেনায় এখন সেই মানের আলু ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। ‘ তিনি বলেন,সারা বছর গোল আলু থাকলে দাম কম থাকে। এরপর আস্তে আস্তে মজুতেরি দিকে চলে গেলে দাম বেড়ে যায়।

তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম তাড়াতাড়ি বেড়েছে এবং দাম বৃদ্ধির হার বেশি। ৩৫ টাকা কেজি গোল আলু বিক্রি করা ব্যবসায়ী অমূল রায় বলেন,এই আলু বাছাই করা। একটা আলুতেও কোনো ধরনের খুঁত পাওয়া যাবে না। একারণে দাম একটু বেশি। অবাছাই করা আলু আছে। ওই আলু ৩২ টাকা কেজি নিতে পারবেন। হঠাৎ আলুর দাম বেশি হওয়ায় জানতে চাইলে তিনি বলেন,’ আড়তে দাম বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রতি কেজি আলু ৩-৪ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে ফলে আমরাও বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।

এখন যে আলু ৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করেছি, দুইদিন আগেও তা ৩০ টাকায় বিক্রি করেছি। পৌরহাটে এক ক্রেতা বলেন,’নভেম্বর মাস থেকেই বাজারে নতুন আলু আসতে থাকে। প্রথমদিকে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি থাকে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে আলু বাজারে চলে আসে। ফলে তখন দামও কমে। সুতরাং আলুর দাম সহসা কমার সম্ভাবনা খুব কম।বরং এখন দিন যত যাবে আলুর দাম তত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন আলু আসার পর আগামী বছর দাম কমতে পারে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কাঁচা সবজির বাজারে যেন আগুন লেগেছে , কিছু কিছু মাছ , মুরগীর তুলনায় কাঁচা সবজির দাম বেশী । নিম্ন আয়জনের মানুষের কি উপায় , একদিকে চাউলের দাম অন্যদিকে সবজি ?কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য