চীনের উহান থেকে মহামারী আকারে ছড়ানোর সাত মাসের মাথায় বিশ্বজুড়ে শনাক্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের মোট সংখ্যা এক কোটি ২০ লাখ ১২ হাজার ৭২০ জনে দাঁড়িযেছে।

বাতাসের মাধ্যমেও করোনাভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ বাড়তে থাকার মধ্যেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এ মাইলফলক ছাড়াল। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ ছুঁইছুঁই করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বার্ষিক মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীর তিনগুণ হয়ে গেছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারাত্মভাবে আক্রান্ত অনেক দেশই ভাইরাসটির বিস্তার রোধে লকডাউন আরোপ করেছিল, কিন্তু সম্প্রতি তারা লকডাউন শিথিল করেছে। তবে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি দেশ সংক্রমণ ফের বাড়তে থাকায় আরেকবার লকডাউনের শরণ নিয়েছে।

করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী সামাজিক ও কর্মজীবনে যে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে একটি টিকা আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তা স্থায়ী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জানুয়ারির প্রথমদিকে চীনে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্তের তথ্য নথিবদ্ধ হয়। এরপর ১৪৯ দিনের মধ্যে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ৬০ লাখে দাঁড়িয়েছিল, আর ওই সংখ্যাটি দ্বিগুণ হতে লাগল মাত্র ৩৯ দিন।

রোগটিতে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ১০ জানুয়ারি, চীনের উহানে। এরপর ইউরোপে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে, পরে এ ধারার বিস্তার ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে।

৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্ত বৃদ্ধির বিশ্বরেকর্ড হয়েছে। এদিন দেশটিতে নতুন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ২০৯ জন। এর মধ দিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৩০ লাখ ৫৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্বের মোট করোনাভাইরাস আক্রান্তের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এ বিশ্বের মোট মৃত্যুর এক-চতুর্থাংশও ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। মৃত্যুর সংখ্যায়ও শীর্ষে আছে দেশটি।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ব্রাজিল বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো মহামারীকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন।

১ জুলাই থেকে ব্রাজিলে প্রতিদিন শনাক্ত হওয়া নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজারের মধ্যে থাকছে। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ লাখ ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, লাতিন আমেরিকায় ভাইরাসটি সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশ্বের মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি দুই আমেরিকায় আর মোট মৃত্যুর প্রায় প্রায় অর্ধেক এই দুই মহাদেশে।

সাত লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি রোগী নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে আছে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল দেশ ভারত। দেশটিতে প্রতিদিন ২০ হাজারেরও বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

অনেক দেশেই পর্যাপ্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্ত অনেককেই শনাক্ত করা যায়নি বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। এ কারণে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য