ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান, শ্রমিকদের পুনরায় স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদানসহ ৪ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা।

মানব বন্ধনে আগামী ১২ জুলাইয়ের মাধ্যে তাদের বেতন ভাতা পরিশোদ করে কাজে না নিলে ১৩ জুলাই থেকে খনির গেটে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষনা দিয়েছেন বড়পুকুরিয়া কনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবীউল ইসলাম।

গতকাল বুধবার খনির দক্ষিন বানিজ্যিক গেটের সামনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এক ঘন্টাব্যাপি এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে উপরোক্ত ঘোষনা দেন।

মানব বন্ধনে অনান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, বড়পুকুরিয়া জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা নুর ইসলামসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, বাংলাদেশী ১১৪৭জন শ্রমিক খনিটির শুরু থেকে চিনা ঠিকাদারী কোম্পানী এক্সএমসি সিএমসির অধীনে খনির অভ্যন্তরে কাজ করে আসছেন।

বৈশিক দুর্যোগ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক চলতি সনের গত ২৬মার্চ থেকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে, খনি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র চীনা শ্রমিকদের নিয়ে স্বল্প পরিসরে খনির উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখেন। সেই সময়ে যথাসময়ে শ্রমিকদের বেতন ভাতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছুটি দিলেও। শুধুমাত্র মার্চ মাসের ২৬ দিনের বেতন ও ঈদ বোনাস দিয়েছেন।

বর্তমানে সরকারী অফিস আদালত চালু হলেও তাদেরকে আর খনিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছেনা এতে তারা কাজেও যোগ দিতে পারছেনা। এইজন্য এখন তারা আন্দোলনে নেমেছেন। শ্রমিকরা বলেন আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে খনি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ৪দফা দাবি মেনে না নিলে ১৩ জুলাই থেকে খনির প্রধান ফটকের সামনে পরিবার পরিজন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি পালন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কামরুজ্জামান খান বলেন, করোনার কারণে শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হয়েছিলো। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি সিএমসি সাথে আমাদের কথা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের কাজে যোগদানের মাধ্যমে তাদের বকেয়া পাওনা প্রদান করবেন বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য