মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের শাইল্ল্যার মোড় চরকপাড়ায় একটি রাস্তা নির্মাণের ১ মাসের মাথায় ভেঙ্গে গেছে। চলতি বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে হেরিং বোন ইটের নিচের বালু সড়ে গিয়ে সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর চলাচলে চরম দূর্র্ভোগ দেখা দিয়েছে। অনেকের মন্ত¦ব্য আগেই মাটির রাস্তা ভাল ছিলো। পাকা করার নামে নি¤œ মানের কাজ করার কারণে তৈরী করতে না করতেই তা আজ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে আগের চেয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে।

জানা যায়, চরকপাড়ার ওই রাস্তাটি দিয়ে এলাকার প্রায় কয়েক হাজার মানুষের চলাচল। রাস্তাটি মাটির থাকায় প্রায়ই সামান্য বৃৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে। বার বার বলার পরও ওয়ার্ড মেম্বার বা চেয়ারম্যানরা সংস্কার করছিলেন না। এমতাবস্থায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানালে বিগত অর্থ বছরে এডিবি’র অর্থায়নে ৬৪ মিটার রাস্তা ইট বিছিয়ে তথা হেরিং বোন করে দেয়া হয়। ২ লাখ টাকার বিনিময়ে নির্মিত এ হেরিং বোন করার ক্ষেত্রে চরম অনিয়মের আশ্রয় নেয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁওয়ের এম ইসলাম কোম্পানী। যার তত্বাবধানে ছিলেন স্থানীয় প্রতিনিধি জিকরুল হক নামে এক ইটভাটা ওয়ালা।

এলাকাবাসী জানায়, জিকরুল হক নিয়মানুযায়ী ইট বিছায়নি। নিচের সোলিংয়ের সময় বেড করে বালু ফেলে পানি দেয়ার কথা থাকলেও তা না করেই প্রায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি ফাক ফাক করে ইট বিছায়। ফাকগুলোতে বালু দিয়ে পূরণ করা হয়। উপরের স্তরের ইটও একইভাবে করে। তাছাড়া ব্যবহৃত ইটগুলো ছিলো দুইনম্বরসহ অত্যন্ত নি¤œমানের। ইটভাটাওয়ালা জিকরুল হক তার ভাটার সব খারাপ ইট এখানে ব্যবহার করেছে।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে ওয়ার্ড মেম্বার আনিছুুল ইসলাম বলে এমনিতেই রাস্তাটার কাজ কেউ করতে চায়না। যেভাবে করে দিচ্ছে দিক, বাধা দিলে আর কোন কাজ হবেনা। তখন সমস্যা হবে। তাই যেটুুকু করছে করতে দেন। এখন মাত্র কয়েকদিনের বৃৃষ্টিতে রাস্তার ইটের নিচের বালু সড়ে গিয়ে গর্ত হয়েছে। এতে ইটগুলো ্উচুনিচু হয়ে চলাচলের সমস্যায় পড়েছি আমরা। এখনই এ অবস্থা, আগাামীতে যে আরও কেমন হবে তা আল্লাহই ভালো জানে ? ঠিকাদারের সাথে ইঞ্জিনিয়ার আর ওয়ার্র্ড মেম্বারের যোগ সাজশের কারণেই নি¤œমানের কাজ করায় এমনটা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারের প্রতিনিধি ইটভাটা ওয়ালা জিকরুল হক বলেন, কত টাকার কাজ তা আমার মনে ন্ইে। কোথায় কাজ করেছি তাও ্আামার জানা নেই। তবে বর্ষার কারনে এধরণের রাস্তাগুলো একটু ভেঙ্গেছে। তা ঠিক করে দেয়া হবে।

উপজেলা নির্র্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ এএফএম রায়হানুল ইসলাম জানান, রাস্তা যদি ভেঙ্গে গিয়ে থাকে তাহলে ঠিক করা হবে। বর্র্ষার সময় রাস্তা ভাঙ্গতেই পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য