জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুতে তুমুল বৃষ্টিপাতে দেখা দেওয়া ব্যাপক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কিউশুর কুমামোতো প্রিফেকচারে আরও ১৩ জন নিখোঁজ ও বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা আরও ১৭ জনের দেহে প্রাণের কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে।

শনিবারের নজিরবিহীন বৃষ্টিপাতে পর রোববার সন্ধ্যার দিকে একই এলাকায় ফের ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।

এক দিনের বৃষ্টিপাতে স্থানীয় কুমা নদীর পানি ১০টিরও বেশি স্থানে তীর উপচে আশপাশের এলাকাগুলোকে প্লাবিত করেছে।

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে লাখো বাসিন্দাকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু লোক জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে উঠেছেন। জাপানের সেল্ফ-ডিফেন্স বাহিনীর ১০ হাজার সদস্যকে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বিভিন্ন ফুটেজ ও ছবিতে উল্টে পড়ে থাকা গাড়ি, নিজেদের বাড়িঘরের উপর জমে থাকা কাদা সরানোর চেষ্টারত মানুষ ও সেল্ফ-ডিফেন্স বাহিনীর উদ্ধার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।

বন্যায় ডুবে যাওয়া একটি বৃদ্ধ নিবাস থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের কারও মধ্যেই প্রাণের কোনো লক্ষণ না থাকায় সবার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় একজন নারী বলেছেন, “এটি স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মতো ছিল না। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি এতো তীব্র বৃষ্টি হবে।”

“বিদ্যুৎ ছিল না, পানি ছিল না। খুবই কঠিন সময় কেটেছে,” এনএইচকে-কে এমনটাই বলেছেন উদ্ধার পাওয়া আরেকজন নারী।

আরও বৃষ্টি হতে পারে, এমন পূর্বাভাস দিয়ে কিউশুর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।

“সন্ধ্যা থেকে কিউশুর উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে বজ্রসহ তুমুল বৃষ্টিপাত হতে পারে। এখন পর্যন্ত যা বৃষ্টি হয়েছে, তা এর মধ্যেই মাটি আলগা করে ফেলেছে, যে কারণে আর সামান্য বৃষ্টিতেই বড় ধরনের ভূমিধসের সম্ভাবনা আছে,” আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থার একজন কর্মকর্তা এমনটাই বলেছেন বলে জানিযেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য