দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের খানসামায় করোনা জয় করে আইসোলেশন কেন্দ্র থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন আরো দুই করোনা রোগী। এর আগে ৯ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্ত ৩৬ জন রোগীর মধ্যে এযাবত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ১১ জন করোনা রোগী।

তারা হলেন উপজেলার গোয়ালডিহি গ্রামের বটতলী সরকার পাড়ার মোঃ আব্দল্লাহ্ (২৮) ও পাকেরহাট গ্রামের রিফুজি পাড়ার শরিফা খাতুন (৪৯)। তারা দু’জনেই নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন।

৪ জুলাই শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপহার ও সুস্থ হয়ে বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আবু রেজা মোঃ মাহমুদুল হক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন আরএমও ডা.শামসুদ্দোহা মুকুল, করোনা রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত মেডিকেল টিমের টিমলিডার ডাঃ ফারুক আহমেদ রিজওয়ান, পিআইও মাজহারুল ইসলাম, আংগারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা আহমেদ শাহ প্রমুখ।

করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া গোয়ালডিহির মোঃ আব্দুল্লাহ্ বলেন, পুরো একমাস পর সুস্থ হয়েছি। চিকিৎসকের বিধিবিধান মেনে চলেছি। আমার বাড়িতে আইসোলেশনে থাকাকে কেন্দ্র করে এলাকার লোকজন যে ঝামেলা করেছিল তা ছিল অকল্পনীয়। প্রতিনিয়তই ইউএনও স্যার, স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান আমার খোঁজ নিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি করোনা রোগীদের খারাপ চোখে না দেখতে সমাজের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

আরেক করোনা যোদ্ধা শরিফা খাতুন বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ও সকলের দোয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে দিনে ৪/৫ বার গরম পানি পান ও গলগলা করা, লাল চা, ভিটামিন সি ও ডি, ক্যালসিয়াম, জিংক ঔষধ খেয়ে সুস্থ হয়েছি। ইউএনও স্যার ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা সবসময় খোঁজ রাখতেন। তাঁরা ফলমূল ও খাদ্য আমাদের আইসোলেশন কেন্দ্রে পৌছে দিয়ে সর্বদাই সাহস দিয়েছেন। তারা সকলকে করোনায় আতংকিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পর থেকেই তাদের সকলকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। তাদের বাড়ি বাড়ি ফলমূল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপহার নিয়ে যেয়ে তাদের খোঁজ-খবর নিয়েছি। এছাড়াও প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে খোঁজ-খবর নিয়েছি। দুর্যোগকালীন সবাই নিরাপদে থাকবেন এই আহ্বান সবার কাছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য